দেশে কর্মসংস্থানের সংকট এখনো কাটেনি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মার্চ ২০২৬-এর এক গবেষণা বলছে, বেকারত্বের পাশাপাশি আংশিক বেকারত্ব ও অনানুষ্ঠানিক কাজ বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের মধ্যে। তবু ঢাকার বাইরে কয়েকটি এলাকায় শিল্প, ব্যবসা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কারণে তুলনামূলক বেশি কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রথম আলোর এক বিশ্লেষণে সেসব এলাকার চিত্র উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম–কুমিল্লা করিডর
মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের দ্বিতীয় অংশ থেকে সেপ্টেম্বরে প্রথমবার রপ্তানি শুরু হয়েছে। সেখানে ১৮টি প্রতিষ্ঠান প্লট পেয়েছে; একটি উৎপাদনে গেছে, বাকিগুলো প্রস্তুতি ও নির্মাণের পর্যায়ে। এলইডি, জুতা, তাঁবু-ক্যাম্পিং পণ্য ও চামড়াজাত পণ্যে বিনিয়োগ আসছে। কুমিল্লা ইপিজেডে কাজ করছেন প্রায় ৪৯ হাজার ২২৩ জন। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৫৬ শতাংশই ঢাকা–চট্টগ্রাম করিডরে।
নারায়ণগঞ্জ–গাজীপুর শিল্পবলয়
পোশাকের পাশাপাশি খাদ্য, ইস্পাত, প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিকস ও ওষুধশিল্পের কারখানা রয়েছে এ দুই এলাকায়। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডেই কাজ করছেন ৭৬ হাজার ১৪২ জন। চলতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে টেক্সটাইল ও ইউটিলিটি ইঞ্জিনিয়ার, মেইনটেন্যান্স ও কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্সের মতো পদের চাহিদা দেখা যাচ্ছে। তবে আগস্টে গ্যাস-সংকটে কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছুটির ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, শিল্পের ঘনত্ব থাকলেই চাকরি সব সময় স্থিতিশীল থাকে না।
সরকারি চাকরি ও আঞ্চলিক শহর
বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার অনুমোদিত পদ শূন্য রয়েছে; নিয়োগে গতি আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এগুলো একসঙ্গে নতুন চাকরি হয়ে যাবে না, ধাপে ধাপে নিয়োগ হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলের এসব পদের বড় অংশের কর্মস্থল ঢাকার বাইরে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট ২০১৩ সালের প্রায় ৭৮ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ১৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিক্রয় খাতে কাজ বাড়ছে।
বেপজার আওতাধীন অঞ্চলগুলোতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২৫ হাজার ১৬৪টি নতুন চাকরি হয়েছে; জুন শেষে সেখানে মোট কর্মসংস্থান ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯১। দেশে ফিরে কাজ খুঁজছেন এমন প্রবাসীরাও এসব শিল্পাঞ্চল ও আঞ্চলিক কেন্দ্রের দিকে নজর রাখতে পারেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো



