পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ হামলায় আরও এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনার আগের দিন সোমবার একই দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয়; তাদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আলী রহমান খান জানান, হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় পুলিশের গাড়িতে কোনো পোলিও টিকাদান কর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার মোটরসাইকেলে করে আসা বন্দুকধারীরা পুলিশের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই পুলিশ সদস্যরা কাছের একটি গ্রামে পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে যাচ্ছিলেন, পথেই তাদের গাড়িতে হামলা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
পাকিস্তানে পোলিও টিকাদান কর্মী এবং তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের ওপর এ ধরনের হামলা নতুন নয়। এসব হামলার পেছনে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ওই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি শিশুদের বন্ধ্যা করার পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের অংশ।
মঙ্গলবারের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। জারদারি বলেন, পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা জাতীয় দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না।
এর আগে সোমবার খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকেই পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয়। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে, তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরপর এসব হামলার ঘটনায় পোলিও টিকাদান কর্মসূচির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বে এখনো মাত্র দুটি দেশে বন্য পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ স্থায়ীভাবে রয়েছে—পাকিস্তান ও প্রতিবেশী আফগানিস্তান। গত বছর পাকিস্তানে পোলিওতে আক্রান্ত ৩১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন।
দেশটিতে চলতি বছরের রোববার থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৯৭টি জেলার প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে পোলিও টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচি শুরুর দিনই খাইবার পাখতুনখাওয়ার খাইবার জেলায় ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার শরীরে পোলিও ভাইরাস শনাক্ত হয়। এটি চলতি বছরে পাকিস্তানে শনাক্ত হওয়া অষ্টম পোলিও রোগী।
প্রদেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ খাইবার পাখতুনখাওয়ায়; সেখানে ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া সিন্ধু প্রদেশে আক্রান্ত হয়েছেন দুজন। বারবার হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে পাকিস্তানে পোলিও নির্মূলের প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
Source: জাগো নিউজ২৪






