টানা ৩৪ দিন অচলাবস্থার পর ২৮ অক্টোবর বুধবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল রোববার, ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত জানান। তাঁরা বলেছেন, দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষাজীবনের সেই ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিবেচনা করেই তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সঙ্গে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে সমর্থন করার কোনো সম্পর্ক নেই। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাঁরা তাঁর নেতৃত্বও মেনে নিচ্ছেন না।

শ্রেণিকক্ষে ফেরার উদ্যোগের পটভূমি ব্যাখ্যা করে বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষকদের কাছে দেওয়া খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষকেরা ক্লাস নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আলোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফেরানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়াকে আন্দোলন শেষ হওয়ার ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। একইভাবে একে নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও বলা যাবে না। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদে ফিরিয়ে আনার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যাওয়ার চেষ্টা করলে কী কর্মসূচি নেওয়া হবে, সেটিও বিবৃতিতে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের বক্তব্য, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলে অথবা সেখানে গিয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালনে উদ্যোগী হলে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে আবার ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করবেন। তখন ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিতেও ফিরে যাবেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং নতুন উপাচার্যের নেতৃত্ব গ্রহণ করা দুটি আলাদা বিষয়। ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্তকে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা হলে তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করবেন।

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। নতুন করে সংকট তৈরি না করার অনুরোধের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিবৃতির শেষেও শিক্ষার্থীরা তাঁদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন উপাচার্যের প্রতি সম্মতি প্রকাশ করে না; অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

Source: জাগো নিউজ২৪