দেশে রোবটের সহায়তায় অস্ত্রোপচার (রোবোটিক সার্জারি) শুরু হয়েছে। রাজধানীর ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে গত ৩১ আগস্ট প্রথম এমন অস্ত্রোপচারে এক পুরুষ রোগীর পিত্তথলি অপসারণ করা হয়; একই দিনে রোবটের সাহায্যে এক নারী রোগীর জরায়ু অপসারণও করা হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১২ জন রোগীর রোবোটিক সার্জারি হয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন।

রোগীদের একজন মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিসে ভোগা ১১ বছরের এক শিশু। প্রচলিত পদ্ধতিতে বুকের হাড় কেটে তার অস্ত্রোপচার করতে হতো, যে ভয়ে পরিবারটি প্রায় ছয় মাস অস্ত্রোপচারে রাজি হয়নি। ২ সেপ্টেম্বর ছোট ছিদ্র দিয়েই রোবটের সহায়তায় অস্ত্রোপচার শেষ হয়, আর পরদিন সকালেই চিকিৎসকের সঙ্গে ফুটবল খেলেছে শিশুটি।

চিকিৎসকেরা বলছেন, রোবট নিজে থেকে অস্ত্রোপচার করে না; সার্জন ত্রিমাত্রিক মনিটর দেখে রোবোটিক বাহু নিয়ন্ত্রণ করেন। যন্ত্রগুলো অনেক নমনীয় হওয়ায় ছোট ও জটিল জায়গায় সূক্ষ্মভাবে কাজ করা যায়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ১৫–২০ গুণ বড় করে দেখা যায় এবং হাতের স্বাভাবিক কাঁপুনিও ছেঁকে ফেলে যন্ত্রটি। ফলে রক্তপাত, ব্যথা ও শারীরিক ধকল কম হয়, রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন।

হাসপাতালটিতে ব্যবহৃত রোবটটি চীনের তৈরি ‘মেডবট তুমাই এন্ডোস্কোপিক সার্জিক্যাল রোবট’। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এটি দেশে আনা হয়, তবে সরকারি অনুমতি পাওয়ার পরই অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। চিকিৎসকেরা চীনে দুই দফা প্রশিক্ষণ নিয়ে রোবোটিক সার্জারির সনদ অর্জন করেছেন।

খরচ অবশ্য বেশি: দেশে এ অস্ত্রোপচারে ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির দুই থেকে আড়াই গুণ খরচ পড়ে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে গিয়ে চিকিৎসার তুলনায় তা অনেক কম, কারণ সেখানে হাসপাতালের খরচের সঙ্গে রোগীর সঙ্গীর থাকা-খাওয়ার খরচও যোগ হয়। সময়ের সঙ্গে খরচ আরও কমবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো