চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার ১২ জন উপপরিদর্শক (এসআই) সরাসরি মাদক কারবারে জড়িত বলে প্রকাশ্য সভায় অভিযোগ করেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খান। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছেন, থানায় এখন এসআই আছেন আটজন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে, বুধবার (৫ আগস্ট), উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো উপজেলা কমপ্লেক্সের কবি আব্দুল হাকিম মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা করে। সেখানে বক্তব্যে নিঝুম খান দাবি করেন, থানা মানুষের কথা শোনে না, পুরো থানাই মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। তাঁর প্রশ্ন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাদকের বিরুদ্ধে বলার পর নিজেরাই মাদক ব্যবসা করলে বা সন্ত্রাস লালন করলে মাদক বন্ধ হবে কীভাবে।
বিএনপির অনেক ভালো ছেলেও মাদকে জড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। বক্তব্যটির প্রায় এক মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরে গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে নিঝুম খান বলেন, তিনি কেবল ১২ জন এসআইয়ের কথা বোঝাননি; ওসি বাদে মাঠপর্যায়ে কাজ করা এসআই ও এএসআইদের অনেকেই মাদক ছড়ানোর সঙ্গে যুক্ত, আর তাঁরা কোনোভাবেই তা ঠেকাতে পারছেন না। তাঁর ভাষায়, ‘রাত হলে দেখি এসআই-এএসআইরা মাদক কারবারিদের সঙ্গে আড্ডা দেয়।’
অভিযোগের ভিত্তি জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানা থেকে খানিক দূরের পণ্ডিতেরহাটের পরিচিতি মাদকের বড় ডিপো হিসেবে; সেখান থেকেই গোটা সন্দ্বীপে মাদক ছড়ায়। এত দিনেও এই সিন্ডিকেট কেন ভাঙা যাচ্ছে না, সেটিই বড় প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওসি সুজন হালদারের বক্তব্য, থানায় এখন আটজন এসআই কর্মরত, ১২ জন নেই। এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
নিঝুম খানকে দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর হোছাইন বলেন, পুলিশের কাছ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণে আশানুরূপ সহায়তা না পাওয়ার বিষয়টিই হয়তো তিনি তুলে ধরতে চেয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাগরপথে ইয়াবাসহ নানা মাদক সন্দ্বীপে ঢুকে ছড়িয়ে পড়ে।






