বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির চলমান সংকট কাটাতে ৯০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান একটি কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি সরকার, বিরোধী দল, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী এবং স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ‘যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি। ৯০ দিন শেষে জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন পেশের দাবিও জানানো হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনদুর্ভোগ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তিন মাসে সাগরে নতুন গ্যাস খোঁজা বা বড় পাইপলাইন বসানো সম্ভব নয়, তবে এ সময়েই কূপে ওয়ার্কওভার, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ভোলার গ্যাস ব্যবহার, অবৈধ সংযোগে ব্যবস্থা ও বণ্টনসূচি প্রকাশের মতো কাজ করা যায়।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলগুলোর কাছে কার্যকর পরিকল্পনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছেন, জামায়াত তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তবে তার ভাষ্য, বিরোধী দলের দেওয়া ১০ দফা সুপারিশ সরকার হাতে পেয়েছে গত ২১ মে, তাই নতুন পরিকল্পনার চেয়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি এবং তিন মাসে কতটা অগ্রগতি হলো, প্রধানমন্ত্রীর তা জাতিকে জানানো উচিত।

জামায়াতের প্রস্তাবে দ্রুত ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় যুক্ত করা, স্থল ও সমুদ্রে অনুসন্ধান জোরদার, বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) দ্রুত চালু, জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল মনিটরিং ও রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের কথা রয়েছে। দলটি একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠন, জরুরি ওয়ার্কওভারের অনুমোদনপ্রক্রিয়া সরল করা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ও ট্যারিফের তথ্য জনসমক্ষে আনা এবং জরুরি দরপত্র মূল্যায়নে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দিয়েছে। খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেন এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি এবং মহেশখালী ও পায়রায় টার্মিনাল প্রকল্প কতদূর এগোল, সে প্রশ্নও তুলেছে জামায়াত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু নতুন এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে গ্যাসের ঘাটতি স্থায়ীভাবে মিটবে না; পাইপলাইনের সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার খরচ ও এলএনজি আমদানির বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে। সমস্যা সমাধানে ১০ বছরের অজুহাত না দেখাতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত রাখা যাবে না; সরকার চাইলে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুতের অবৈধ লাইন ও ভুতুড়ে বিল বন্ধ করতে পারে। কুইক রেন্টাল কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করে তা বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমরা এ সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না।’ তার মতে, জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে ক্ষতিটা শুধু সরকারের নয়, পুরো দেশের; তবে জনদুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সরকার নন-ইস্যু সামনে এনে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপাতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সময়সীমা বেঁধে কয়েকটি দাবিও তোলা হয়: ওয়ার্কওভারের জন্য ১৫ দিনে অগ্রাধিকার তালিকা ও ৩০ দিনে অনুমোদন শেষ করা, অচল ও কম উৎপাদনশীল কূপের পূর্ণ তালিকা এবং আবার উৎপাদনে আনার সম্ভাবনা ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশ, পাইপলাইন না হওয়া পর্যন্ত সিএনজি/এলএনজি আকারে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনা বাড়ানো এবং ৯০ দিনের লক্ষ্য ধরে অবৈধ সংযোগ কেটে সিস্টেম লস কমানো। আবাসিক, শিল্প, সার ও বিদ্যুৎ খাতে কখন গ্যাস দেওয়া হবে, তার আগাম সূচি প্রকাশের দাবিও জানানো হয়। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।