সংঘাত বা সহিংসতার পথে না গিয়ে গঠনমূলক বিরোধিতা চালিয়ে যেতে বিরোধী দলকে পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকেরা। দরকার হলে আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে থাকার কথাও বলেছেন তারা। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ পরামর্শ আসে বলে পরে জানিয়েছে দলটি।

বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সভায় গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য সম্পাদকদের সহযোগিতা চান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তারা সংসদকে কার্যকর রেখে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে চান এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চান; সে জন্য সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রতিশ্রুতি মেনে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করা হলেও তা কতদূর ও কতদিন চলবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে একটি প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করেন।

পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা সম্পাদকদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন আমির। তার ভাষ্য, ভালো কাজে সরকারকে সহায়তা আর জনস্বার্থবিরোধী কাজের প্রতিবাদ—এই নীতিতে চলছে জামায়াত, তবে বিরোধিতার ধরন হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। দেশের রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্নোত্তর হয়েছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রশ্নে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে যে অবস্থান আলোচিত হয়েছে, সেটিই দলের নীতি বলে আমির জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরওয়ার জানান, সম্পাদকেরা বলেছেন বিরোধিতা চলুক, কিন্তু আগের বিরোধী দলের মতো সহিংস, অসহিষ্ণু বা অস্থিতিশীলতার পথে গিয়ে দেশকে যেন আর অস্থির করা না হয়। কয়েকজন সম্পাদক এ ব্যাপারে জামায়াত আমিরের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে মাঝেমধ্যে মতামত জানানোর কথা বলেছেন। দেশের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দলের কোনো দূরত্ব আছে বলে জামায়াত মনে করে না বলেও জানান তিনি।

পরওয়ার বলেন, সংসদে উন্নয়ন বরাদ্দ, বিলিবণ্টন, এমনকি ফ্লোরে কথা বলার সুযোগেও সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে—এমন তথ্য সভায় তুলে ধরা হয়েছে। স্পিকার বা সরকারি দলের কাছ থেকে ন্যায্য আচরণ না পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, প্রবাসীদের অধিকার ও গণভোটের রায় কার্যকরে জামায়াতের ভূমিকার কথাও আলোচনায় আসে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে পরওয়ার জানান, গণভোটের রায় কার্যকরের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য তথা জামায়াত বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না; তারা জনগণের রায়ের পক্ষে আছেন। সংসদে নিষ্পত্তি হলে ভালো, না হলে ৭০ ভাগ মানুষ যেখানে আছে, জামায়াতও সেখানে চলে যাবে বলে জানান তিনি।

সভায় নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল ও আজকের পত্রিকা সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদকেরা অংশ নেন। জামায়াতের পক্ষে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপিসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।