বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার ৪৮টি উল্লেখযোগ্য অর্জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, তালিকাটি তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি থেকে তৈরি।
পোস্টে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতিকে উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী এবং চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে আপসহীন ও গণতান্ত্রিক হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গতিশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তালিকার শুরুর দিকে রয়েছে রাষ্ট্রদর্শন ও শাসনব্যবস্থার বিষয়গুলো—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দর্শনের প্রবর্তন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা। ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্ব, সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার মূলনীতি ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন এবং সব মত, ধর্ম ও এলাকার গণতান্ত্রিক মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত করার কথাও আছে।
অর্থনীতি ও উন্নয়নের ঘরে তিনি রেখেছেন দেশজুড়ে খাল কাটা, রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের সূচনা, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি শুরু, মুক্তবাজার অর্থনীতি, ভ্যাট চালু, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন এবং স্বনির্ভর গ্রাম সরকার। শিশু একাডেমি, শিশুপার্ক ও নতুনকুঁড়ি, স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক প্রবর্তন, গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি), গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠাও তালিকায় জায়গা পেয়েছে।
শিক্ষা খাতে আছে প্রাথমিক শিক্ষা দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক করা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা খরচে পড়াশোনা এবং তা স্নাতক পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা। আইন ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরা, সংবিধানে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার যুক্ত করা, এসিড অপরাধ দমন আইন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, কোস্ট গার্ড, বিটিআরসি গঠন এবং বেসরকারি খাতে মোবাইল যোগাযোগ উন্মুক্ত করা।
পরিবেশ ও অবকাঠামোর দিক থেকে এসেছে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, টু-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার তুলে দিয়ে সিএনজি চালু এবং দেশের প্রথম ফ্লাইওভার। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বাড়ানো, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-ও রয়েছে তালিকায়। শেষ দিকে তিনি রেখেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা, সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ড, নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব-পুরোহিতসহ ধর্মীয় উপাসকদের মাসিক সম্মানী এবং দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে গণমুখী, জনসম্পৃক্ত রাজনীতি।
পোস্টে তিনি লেখেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সবার আগে রেখে গণমুখী রাজনীতির ধারা ধরেই বিএনপি এগিয়ে চলেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি দেশবাসী, সমর্থক ও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং গণতন্ত্রের আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন। তাঁর মতে, অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগ এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই বিএনপির পথচলার সবচেয়ে গৌরবের অধ্যায়।






