প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শুরুর নাম ছিল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সপরিবারে নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সামরিক আইন জারির মধ্য দিয়ে ১৯৭৬ সালে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান, তখন তিনি ছিলেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। পরে রাষ্ট্র পরিচালনাকে বেসামরিক কাঠামোয় নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তিনি নতুন দল গড়ার কাজ শুরু করেন।

১৯৭৭ সালে শাসনব্যবস্থাকে বেসামরিক রূপ দিতে জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে একই সময়ে গড়া হয় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। জাগদল বিলুপ্ত করে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির আত্মপ্রকাশ ঘটে; সেদিন বিকেল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় ঘোষণাপত্র পড়ে দলটির যাত্রা শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান নিজে আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে শুরুতে ১৮ জনের নাম জানান, পরে ৯ সেপ্টেম্বর তাঁদের নিয়ে মোট ৭৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষিত হয়, যাকে দলের প্রথম কমিটি হিসেবে ধরা হয়।

প্রতিষ্ঠাকালীন বিএনপির বড় বৈশিষ্ট্য ছিল নানা মতাদর্শের মানুষের সমাবেশ: ডান, বাম ও মধ্যপন্থিসহ বিভিন্ন ধারার নেতা ও ব্যক্তিত্ব দলে জায়গা পান, ফলে শুরু থেকেই দলটি অনেকটা বহুমাত্রিক জোটের চেহারা নেয়। বিএনপির প্রয়াত নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাদু মিয়ার চীনপন্থি ন্যাপ, শাহ আজিজুর রহমানের মুসলিম লীগ, মওলানা মতিনের লেবার পার্টি, ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি), জাগদল ও তফসিলি ফেডারেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী এবং দলছুট বা দলহীন রাজনীতিকদের নিয়ে বিএনপি গড়ে ওঠে।

সেই কমিটিতে ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া (সাবেক ন্যাপ নেতা), মোহাম্মদ উল্লাহ (সাবেক রাষ্ট্রপতি), শাহ আজিজুর রহমান (সাবেক মুসলিম লীগ নেতা), এ এস এম আবদুল হালিম চৌধুরী (ক্যাপ্টেন, অব.; সাবেক ন্যাপ-ভাসানী নেতা), রসরাজ মণ্ডল (পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী) এবং আবদুল মোমেন খান (সাবেক ক্যাবিনেট ও খাদ্য সচিব)। অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এম সাইফুর রহমান (চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট), নুরুল হক (ক্যাপ্টেন, অব.; সাবেক নৌবাহিনী প্রধান), জামাল উদ্দিন আহমদ (ব্যবসায়ী), ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, কে এম ওবায়দুর রহমান, মির্জা গোলাম হাফিজ, শামসুল হুদা চৌধুরী, ড. আমিনা রহমান ও এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান মিন্টু।

আরও ছিলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আবদুর রহমান বিশ্বাস, তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত, এ এফ এম নাজমুল হুদা, সাংবাদিক খন্দকার আবদুল হামিদ, কবির চৌধুরী, তুষার কান্তি বাড়ৈ ও সুনীল কুমার গুপ্তসহ বিভিন্ন অঙ্গনের আরও অনেকে।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি চলছে; সারা দেশে বৃক্ষরোপণ ও মাছ অবমুক্তকরণের পাশাপাশি ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে হবে কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা। তারেক রহমান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী পৃথক বিবৃতিতে নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। দুই দশক পর বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে, এমন প্রেক্ষাপটেই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।