ছয় দফা কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক দাবি—এমন মন্তব্য করেছেন মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং দলের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের প্রস্তুতি ও নির্মাণাধীন মঞ্চ ঘুরে দেখেন দলটির নেতারা। পরিদর্শন শেষে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে এ কথা বলেন বুলবুল।
সংসদ সদস্য বুলবুলের ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সারের সংকট দূর করা, নিত্যপণ্যের দাম বাড়া ঠেকানো, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চের ডাক দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। দেশবাসীকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে সমাবেশ শুরু হবে এবং ৮টার মধ্যেই বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে লংমার্চ চট্টগ্রামের পথে রওনা দেবে। তার ভাষায় বহু আন্দোলনের সূতিকাগার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে কর্মসূচিটি শেষ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাইকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেন তিনি।
বুলবুল বলেন, এসব দাবি আদায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা, আর সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতেই লংমার্চ। তিনি জানান, দাবি মানা না হলে সামনে বড় কর্মসূচির ক্ষেত্র তৈরির অংশ হিসেবে শনিবার প্রথম লংমার্চটি শুরু হচ্ছে।
জোটের সূচি অনুযায়ী, এরপর ঢাকা থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রংপুর, ১০ অক্টোবর (শনিবার) খুলনা ও ২৪ অক্টোবর (শনিবার) সিলেট অভিমুখে লংমার্চ হবে, আর ১৪ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক এই কর্মসূচি সফল করতে সরকার, প্রশাসন ও দেশবাসীর সহযোগিতা চান তিনি।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন (ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির) এবং মহানগরী দক্ষিণের তিন সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি ও ড. আব্দুল মান্নান। কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের নেতারাও সেখানে ছিলেন।






