গণভোট ও এর আদেশকে অবৈধ বলা হলে বর্তমান সরকার, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদেরও বৈধতা থাকে না বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌর সদরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন, আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তানও এখন সেই বিপজ্জনক পথে হাঁটছেন বলে মনে হচ্ছে। তার দাবি, ৭০ শতাংশ ভোটার গণভোটে হ্যাঁ বললেও সেই রায় উপেক্ষা করে এখন গণভোটকেই অবৈধ বলা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও জিনিসপত্রের দাম বাড়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার পতনের জন্য নয়, সরকারকে সতর্ক করতেই তারা লংমার্চ করছেন। মানুষের পকেটে আরেকটি কার্ড আছে, সেটি ‘লাল কার্ড’; গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে শেষ পর্যন্ত সরকারকে সেটিই দেখানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদার পথসভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইলেও এ সরকার তা করবে বলে তার মনে হয় না। নতুন ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনার দাবি করে চূড়ান্ত আহ্বান এলে আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি রাখতে বলেন তিনি।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, চাকরির প্রতিশ্রুতি পাওয়া তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হলে তারা প্রধানমন্ত্রীর দরজায় গিয়ে জবাব চাইবেন; হয় চাকরি দিতে হবে, নয়তো ক্ষমতা ছাড়তে হবে। ৬ দফা দাবি মানা না হলে আন্দোলন সরকার পতনের এক দফায় রূপ নেবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
গণভোটের রায় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ লংমার্চ হয়। পথসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার ও এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন এমপিসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন, আর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নেতাকর্মীদের নিয়ে স্লোগান দেন।






