প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রাডোতে চড়ে লংড্রাইভে গিয়েছিলেন। ১১ দলের লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি একে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ফেরার প্রেক্ষাপট তৈরির অংশ বলে উল্লেখ করেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে এসব দাবি করেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, মন্ত্রীপাড়ায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় আলোচনার সময় পাটওয়ারী প্রায়ই আওয়ামী লীগের বাড়িঘর ও সম্পদ দখলের কথা বলতেন, যার কিছুটা নমুনা এবার মিলেছে।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, আগের দিন আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডোতে চড়ে লংড্রাইভ করেছেন পাটওয়ারী। নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিদানে গাড়িটি উপহার পাওয়া, নাকি আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের বাসনা থেকে সেটিও দখল করা—বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত বলে মত দেন তিনি।
লংমার্চকে ‘পিকনিক’ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, সেখান থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বা গণহত্যার বিচার চেয়ে কেন কোনো বক্তব্য আসেনি। তার দাবি, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার পটভূমি তৈরিই ছিল লংমার্চের লক্ষ্য, সে জন্য উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে এবং বহরে লাঠিসোঁটা নেওয়া হয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি বা দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াতের পাতা ফাঁদে পা দেননি। এ ঘটনায় এনসিপি দলীয়ভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকে তাকিয়ে আছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী।
লংমার্চটি শুরু হয় ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে এক উদ্বোধনী সমাবেশ দিয়ে, যেখানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি এবং এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অন্যতম প্রধান বক্তা ছিলেন। প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের বহর কুমিল্লা ও ফেনীতে পথসভা সেরে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করে।






