জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা এবং তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আ স ম ফিরোজকে। তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী-২ আসনের এই সাবেক সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত।
আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে ফিরোজ দাবি করেন, এক মামলায় দুই বছর সাজা খেটে জামিন পাওয়ার পর আবারও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো; একটিতে জামিন মিললেই আরেকটিতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে।
জাতির কাছে আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তার ক্ষমা চাওয়ায় কিছু হবে না, যার চাওয়ার কথা তাকেই চাইতে হবে। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি না এ মুহূর্তে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে।’
শুনানিতে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ, বিপক্ষে আসামিপক্ষের কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন। আদালতের অনুমতি নিয়ে ফিরোজ জানান, ৭৮ বছর বয়সী এই বন্দি দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন এবং অসুস্থ; নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আটবারের সংসদ সদস্য উল্লেখ করে কোনো অপরাধ করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত এবং চিকিৎসার আবেদনে কারাবিধি মেনে ব্যবস্থা নিতে বলেন। ফিরোজের আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনের অভিযোগ, উচ্চ আদালতে চার মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তির পথে থাকা অবস্থায় তার মক্কেল যাতে বের হতে না পারেন, সে জন্যই নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে, তখন থেকেই তিনি কারাগারে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ নাইম হাওলাদার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান; একই দিন রুমমেট শিহাবকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তারেক, যিনি ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।






