একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পেছনে স্যাবোটাজ আছে কি না, সে প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
রিজভী বলেন, দেশে কিছু সংকট রয়েছে, গ্যাসের সংকটও আছে। এ জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে দায়ী করে তিনি বলেন, যত জাহাজ আসার কথা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সেগুলো এখন স্বাভাবিকভাবে আসতে পারছে না। মহেশখালীর রিগ্যাসিফিকেশন ব্যবস্থাতেও ত্রুটি দেখা দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার সংকট সমাধানে কাজ করছে এবং কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
রিজভী আরও বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক ত্রুটির কারণে মানুষের মনে স্যাবোটাজের প্রশ্ন জেগেছে; সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হয় কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দ্রুত কাজ করছে; এমন ঘটনা ২০০১-২০০৬ সালেও দেখা গেছে।
সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা কার্ড দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল মরুভূমি হওয়ার পথে, ভূগর্ভেও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে; তাই সরকার আবার খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছে, যাতে পাঁচ বছরে বিশ হাজার কিলোমিটার খাল কাটার লক্ষ্য রয়েছে এবং ৬ মাসে ১ হাজার কিলোমিটার খনন হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে রিজভী অভিযোগ করেন, হাজারো মানুষ ও শিশুর প্রাণ কেড়ে নেওয়া দলটি এখন উঁকি দিচ্ছে; বিচার ছাড়া তারা ফিরে এলে গণতন্ত্রকামী মানুষের কেউ রেহাই পাবে না। দলটিকে রক্তপিপাসু আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, খুনের বিষয়টি এই দলের ডিএনএর সঙ্গে জড়িত এবং তারা বিরোধী রাজনীতি সহ্য করতে পারে না। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটেনি।
১২ দলীয় জোট সব সময় দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন করেছে এবং কঠিন সময়ে দেশ রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। বিরোধী দল সংসদে ও বাইরে কথা বলতেই পারে, তবে অপ্রাসঙ্গিক কথা না বলার এবং সমালোচনায় বাকস্বাধীনতার সীমা না ছাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ইসলামী আইন ফারাজ নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সন্তান মা-বাবার ঠিকমতো দেখাশোনা ও খোঁজখবর করে না, আর যে আইনটি হয়েছে তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জোটপ্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, তাঁরা বন্ধু হয়ে সরকারের সমালোচনা করবেন ও ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেবেন; তবে বর্তমান বিরোধী দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না। সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লিংকন, ড. মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম (জোটের মুখপাত্র ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব) এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন পারভেজ।






