দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি দল দিয়ে সরকারকে বিনামূল্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, সরকার সংকটের কথা না মেনে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছে; তাই বাধ্য হয়ে জামায়াত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন ও লংমার্চের কর্মসূচি পালন করছে।

বগুড়া সার্কিট হাউসে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলা ও মহানগরের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, সার সরবরাহ নিশ্চিত, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি রোধ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, বৈষম্য দূর এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁদের এই আন্দোলন।

জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অবকাঠামো ও শিল্প খাত প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছায়নি। তাঁর ভাষ্য, তৈরি পোশাক খাত এখন গুরুতর সংকটে; বিদ্যুৎ ও সারের ঘাটতিতে উৎপাদন কমেছে, ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ শোধ করতে পারছেন না, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শঙ্কা বাড়ছে এবং বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন।

বগুড়া প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সাত মাথার ঐতিহাসিক সংযোগস্থল ও উত্তরবঙ্গের নাভি এই জেলা একসময় মিনি শিল্পনগরী ও এডুকেশন ভিলেজ হিসেবে পরিচিত ছিল; কিন্তু ৫৫ বছরে একটি মেডিকেল কলেজ ছাড়া শিক্ষায় বড় অগ্রগতি হয়নি, কলকারখানাও টেকেনি। আওয়ামী লীগসহ আগের কোনো সরকারই বগুড়াকে প্রাপ্য উন্নয়ন দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সারা দেশের মানুষের অধিকার পাহারা দেওয়া নিজের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বগুড়ার ন্যায্য পাওনা আদায়ে রাজপথ ও সংসদে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, শাসনতন্ত্রে বড় পরিবর্তনের জন্য হওয়া গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছিলেন ৮২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ, কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকার সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে।

এর আগে সকালে জামায়াত আমির ধুনটে গিয়ে শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন; আব্দুল মালেক ছিলেন ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের নেতা। পরে একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় তিনি মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মাদ্রাসা মাঠে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশ ভালো নেই।’ তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে পৌঁছেছে; সংসদে মানুষের কষ্টের কথা তুলতে চাইলেও সরকার তাঁদের বলতে দিচ্ছে না, তাই অধিকার আদায়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এ সময় সংসদ সদস্য ও দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।