এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি দুই দিন আগে প্রথম কাউন্সিল করেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আলিফ চৌধুরী, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব; কাউন্সিলে তিনি এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশে বসেছিলেন।

পাটওয়ারীর পাশে তার বসার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, চোখ হারানো একজন কীভাবে পায়ের কাছে রাখা পানির বোতল দেখলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একজনের সাহায্যে এসে আলিফ আসনে বসেন, তারপর পায়ের কাছের বোতলটি হাতে তুলে নেন।

সামাজিক মাধ্যমে আরও দাবি করা হচ্ছে, আলিফ পুরোপুরি দৃষ্টিহীন হয়ে গেছেন, অর্থাৎ দুই চোখই হারিয়েছেন। তবে চিকিৎসার তথ্য এবং আলিফ ও তার সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই চোখের দৃষ্টিই হারানোর দাবিটি সঠিক নয়।

গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আলিফ। প্রথমে জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার পর ২৯ জুলাই তাকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার হলেও বাম চোখের দৃষ্টি ফেরানো যায়নি, আর আঘাত পাওয়া ডান চোখের চিকিৎসা এখনো চলছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আলিফ চৌধুরী জানান, তিনি তখনো জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ভাষায়, ‘দুটি চোখের মধ্যে বাম চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে।’ ডান চোখেও প্রভাব পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বেশি আলোতে কিংবা দূরের জিনিস দেখতে তার অসুবিধা হয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক নূর আলম জানান, আলিফের ডান চোখও গুরুতরভাবে আক্রান্ত; কাছের জিনিস খানিকটা দেখা গেলেও দিনের আলোতে তিনি তাকাতে পারেন না, দূরের কিছুও স্পষ্ট দেখেন না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে; সব ঠিক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে পাঠানো হতে পারে বলে জানান তিনি।