জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর খাটিয়ে বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের। জনমতকে পাশ কাটিয়ে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ না গড়ে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটারও কড়া সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধীদলীয় উপনেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠকে বসেন; বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারকে সতর্ক করে তিনি অভিযোগ করেন, এ শক্তি খাটিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে দাঁড়ানোর অযোগ্য করার চক্রান্ত চলছে। তার মতে, অতীতেও অনেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট দেখাতে গিয়ে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছিল।
সরকার ও প্রশাসনকে কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সব কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের কোনো ভাবনা তাদের নেই। কেউ ইচ্ছা করে এসব কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে দেশকে অস্থির করতে চাইলে সেই চিন্তা থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘অহেতুক পায়ে পাড়া দিয়ে গণ্ডগোল সৃষ্টি করে শান্ত দেশকে অশান্ত করবেন না।’
বহুল আলোচিত লংমার্চের রুটও ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়: ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী জনসভা, ৮টায় যাত্রা শুরু, পথে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের নগর জলফই মোড়ে পথসভা। যমুনা সেতু পেরিয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে জোহরের নামাজের বিরতির পর রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে লংমার্চ শেষ হবে।
গোলাম পরওয়ার জানান, গাড়িবহরের পেছনে মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, স্বেচ্ছাসেবক, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক বিভাগ থাকবে এবং শৃঙ্খলায় কাজ করবে ৮-৯টি বিশেষ বিভাগ; পথে রান্নার সুযোগ না থাকায় সবাইকে শুকনো খাবার, পানি ও দরকারি ওষুধ সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ (জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল), মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (লেবার পার্টির চেয়ারম্যান), জালালুদ্দীন আহমদ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব) ও রাশেদ প্রধান (জাগপা সহসভাপতি)।






