গণভোটে বড় ব্যবধানে হ্যাঁ জয়ী হলেও সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেনি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শেষে শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাপনী সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মামুনুল হকের দাবি, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে কেবল সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ায় যাত্রার প্রথম ধাপেই সরকার দেশ ও জাতির প্রতি নজিরবিহীন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী রংপুরে এসে হ্যাঁ ভোট চেয়ে কথা দিয়েছিলেন, গণভোটে হ্যাঁ জিতলে সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে জুলাই সনদকে সংবিধানের অংশ করা হবে।

জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসা সরকারের বিরুদ্ধে জাতির সঙ্গে মুনাফিকি ও গাদ্দারির অভিযোগও তোলেন খেলাফত মজলিসের আমির। তিনি বলেন, সরকারের মতো ১১ দলও হ্যাঁ ভোট চেয়েছিল; সরকার গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতা করলেও ১১ দল তা করতে পারে না এবং নিজেদের নাম মীর জাফরের খাতায় তুলবে না।

সামনে আন্দোলন চলবে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় কার্যকর করেই আমাদের আন্দোলন ক্ষান্ত হবে।’

লংমার্চের দাবির মধ্যে আছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের পাশাপাশি দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধ, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা, নিত্যপণ্যের দাম বাড়া ঠেকানো, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণের অবসান এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন। আয়োজকেরা একে জোটের দ্বিতীয় বড় লংমার্চ বলছেন; প্রথমটি ছিল ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সকাল ৭টায় উদ্বোধনী সমাবেশের পর ৮টার দিকে বহরটি রংপুরের পথে রওনা দেয়। গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস থেকে শুরু করে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা সেরে সন্ধ্যায় রংপুরে সমাপনী সমাবেশ শুরু হয়।