সরকার বা দেশ, কোনোটির বিপক্ষেই তাঁদের অবস্থান নয় বলে দাবি করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম। গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন পথসভায় সভাপতিত্ব করেন। সেখানে অলি আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না।’ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত দেশ গড়াই তাঁদের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই তা পারছে না। সংস্কার তাঁদের দাবি এবং তা করতেই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সভায় দাবি করেন, দলীয় কোনো চাওয়া নয়, গণভোটের গণরায় নিশ্চিত করার দাবিতেই তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন; দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া ও আধিপত্যবাদের বিরোধিতা এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি মন্তব্য করেন, দলটি পানি খাবে, তবে ঘোলা করে খাবে।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানান, অধিকার আদায়ে তাঁরা উত্তরাঞ্চলের পথে যাত্রা করেছেন এবং গণদাবি নিয়ে মাঠে নামা ১১ দল সফল হয়েই ঘরে ফিরবে। তাঁর মতে, গণভোটের রায় কার্যকর করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই এবং সেই রায় বাস্তবায়নের পর সরকারকে বিদায় নিতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকটের সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যকরসহ কয়েকটি দাবিতে এ লং মার্চ করছে জোটটি। সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর সকাল ৮টার দিকে বহরটি রংপুরের পথে রওনা দেয়।

গাজীপুর থেকে বহরটি আবার রংপুরের দিকে এগোয়। এরপর টাঙ্গাইলে নগর জলফৈ বাইপাস রোডে, সিরাজগঞ্জে হাটিকুমরুল মোড়ে, বগুড়ায় মাটিডালি বিমান মোড়ে এবং গাইবান্ধায় পলাশবাড়ীতে পথসভা হওয়ার কথা। রংপুর জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।