সংসদের বিশেষ কমিটিকে দিয়ে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করানোর চলমান উদ্যোগ মানবে না বলে জানিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য। জোটটির দাবি, গণভোটে পাস হওয়া সংস্কার কার্যকর করার কাজটি হতে হবে কেবল সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জোটের এই অবস্থান ও ছয় দফা তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
পরওয়ার বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য, তা উপেক্ষা করে কোনো প্রক্রিয়া মানা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের সার্বভৌম ও গাঠনিক ক্ষমতার মর্যাদা রক্ষার কথা তুলে তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটি দিয়ে গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বিকল্প তৈরির চেষ্টা জোট মানবে না। তার ব্যাখ্যা, একই ব্যক্তি সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হতে পারেন, কিন্তু দুই প্রতিষ্ঠানের আইনি পরিচয়, ক্ষমতার উৎস ও কাজের পরিধি আলাদা।
জোটের ছয় দাবি হলো—গণভোটের রায় যথাযথভাবে কার্যকর করা; জুলাই জাতীয় সনদে থাকা ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন; গণভোটের প্রক্রিয়া এড়িয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সংস্কারের বর্তমান উদ্যোগ বাতিল; নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সদস্য করার প্রক্রিয়া শেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ চালু করা; জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় একতরফা পরিবর্তনের চেষ্টা থেকে সরে আসা; এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য, জনপ্রত্যাশা ও গণভোটের রায়কে ভিত্তি ধরে রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার এগিয়ে নেওয়া।
পরওয়ার আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে প্রকাশিত জনরায়কে সম্মান করাই চলমান সাংবিধানিক মতভেদ মেটানোর গণতান্ত্রিক উপায়। দলীয় সুবিধা দেখে জনগণের ভোট মানা বা না মানার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ (জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল), মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (লেবার পার্টির চেয়ারম্যান) ও রাশেদ প্রধান (জাগপার সহসভাপতি)সহ জোটের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






