বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যে জড়িতদের এ দেশে কোনো জায়গা হবে না। সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা ও মহানগর যুবদল আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে এ সমাবেশ হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের নানা প্রান্তে হঠাৎ দু-একজন ছবি তুলতে উঁকি দিয়েই মুহূর্তে উধাও হয়ে যায়; কিন্তু ছাত্র, যুবক, তরুণ-তরুণী থেকে স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থী পর্যন্ত সব বয়সের মানুষ রাজপথে নেমে তাদের চিরবিদায় জানিয়েছে। তার ভাষ্য, পুণ্যভূমি সিলেটে অন্যায় বা অনিয়মের আর কোনো জায়গা নেই।

বিএনপিকে দেশের সর্বস্তরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন এ শহরে নির্বিঘ্নে হাঁটার মতো যথেষ্ট জায়গা ছিল না; তাই পুরোনো জেলখানার সাড়ে ১০ একর জমিতে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন পার্ক এবং এর পাশে একটি সমৃদ্ধ জাদুঘর গড়ে তোলা হবে। নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

যুবদলের জেলা ও মহানগর কমিটি নতুন করে অনুমোদন পাওয়ায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান মুক্তাদির। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, যিনি যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদকও।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। যুবদল ও ছাত্রদলের জেলা-মহানগরের নেতাদের পাশাপাশি ১৩টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা এবং মহানগরের ৪২টি ওয়ার্ড ও ৬টি থানার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের পর নগরীতে একটি প্রতিবাদ মিছিলও বের হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ বলেন, ৫ আগস্টের পর কিছু টোকাইকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে আপা নাকি ডিসেম্বরে ফিরবেন; তারাও মনেপ্রাণে চান আপা ফিরুক, কারণ তার সঙ্গে এখনো অনেক হিসাব-নিকাশ বাকি। আপা তাদের মাতৃতুল্য নেত্রীকে অন্যায়ভাবে জেলে রেখেছিলেন এবং প্রাণপ্রিয় নেতা এম. ইলিয়াস আলীকে গুম করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি পাড়ায় পাড়ায় দুর্গ গড়ে তোলা এবং ফ্যাসিস্টদের সব আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ডাক দেন।