বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা দলগুলো এখন আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। সভার বিষয় ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা।

বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার কথা উল্লেখ করে রিজভী প্রশ্ন রাখেন, এসব কারা করছে; তার দাবি, এরা সবাই পতিত স্বৈরাচার। তিনি অভিযোগ করেন, তবু আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসীদের মুখে বক্তব্য শোনা যাচ্ছে এবং হুমকি আসছে বিরোধী দলের ভেতর থেকেই। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে গুপ্ত হিসেবে পরিচিত একটি সংগঠনের ছাত্র সংগঠন সেখানে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালিয়েছে; এর দায় কে নেবে, প্রশ্ন তুলে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লংমার্চ করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ দেন তিনি।

জামায়াতকে উদ্দেশ করে রিজভী অভিযোগ করেন, দলটি দুটি নীতি নিয়েছে—একদিকে মিথ্যার আশ্রয়ে বিরোধিতা, অন্যদিকে সোনালি-রুপালি রঙের ছেলেদের উসকানি দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো। তার দাবি, পাকিস্তান আন্দোলনের সময়কার জাতীয়তাবাদী আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলন পর্যন্ত সবকিছুতে দলটি বাধা দিয়েছে; ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বারবার প্রতারণার কারণে কখনো জনগণের আস্থা পায়নি।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে রিজভী দাবি করেন, ন্যায্য সরকারি কার্যক্রমকে অপপ্রচার দিয়ে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, অথচ এখন কেউ বলতে পারবে না ব্যাংক থেকে টাকা পাচার বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট হচ্ছে। তার ভাষ্য, আর্থিক খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আড়াই গুণ হয়েছে। বৈশ্বিক সংকটের দায় সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে বিরোধী দলগুলো অপপ্রচার ও প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি, যদিও তার মতে সংকটটি বাংলাদেশ থেকে বহু দূরের এবং এতে সরকার, বিরোধী দল বা জনগণের কোনো দায় নেই।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু দলের চট্টগ্রাম ও রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জনস্বার্থের দাবিতে লংমার্চ ভালো কথা, কিন্তু রংপুরে সংগঠন থাকার পরও কেন ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে জ্বালানি পোড়ানো হলো, যখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি চলছে। ‘আমি বানিয়ে বলছি না’ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাবে ৪৫০টি গাড়ি পার হয়েছে, অথচ আয়োজকেরাই এক হাজার গাড়ি নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাহলে কিছু গাড়ি টোল না দিয়েই পার হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদে বা সংসদের বাইরে জোরালো সমালোচনায় তাদের আপত্তি নেই, আর লংমার্চে সরকার বা সরকারি দল কোথাও বাধা দেয়নি। তবে শেখ হাসিনার আমলের কাদা ছোড়াছুড়ি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতেই তারা সংগ্রাম করেছিলেন, অথচ এখন তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর জন্যই কি আবু সাঈদসহ এত মানুষ জীবন দিয়েছেন। স্বাধীন দেশে একটি রাজনৈতিক দল অতীতে তাদের ওপর বর্বর নিপীড়ন চালিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নিপীড়ন কখনো কখনো তার কাছে এর চেয়েও ভয়াবহ মনে হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার নাসিম খান, যিনি জোটের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি। সঞ্চালনা করেন এসএম শাহাদাত, যিনি জোটের মুখপাত্র এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান। গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মাওলা ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খানসহ বিভিন্ন দলের নেতারাও বক্তব্য দেন।