সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভেরিফিকেশনের অজুহাতে মেধাবী তরুণেরা বঞ্চিত হলে এর দায় সরকারের।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোন আইন, কোন মানদণ্ড ও কার সিদ্ধান্তে এই প্রার্থীদের হঠাৎ বাদ দেওয়া হলো।

তাঁর দাবি, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে; অনেকে বলছেন, ভেরিফিকেশনের নামেই তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেন।

অনেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক, পারিবারিক বা সামাজিক পরিচয় ও মতাদর্শ দেখেই বহু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গোলাম পরওয়ারের মতে, সরকারি চাকরি কোনো দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার হতে পারে না, আর পারিবারিক বা রাজনৈতিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার জায়গা নিতে পারে না।

কারা বাদ পড়লেন, কেন পড়লেন এবং কার সিদ্ধান্তে—এসব জানার অধিকার জাতির আছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত নেতা। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দলীয়করণ, বৈষম্য বা গোপন সিদ্ধান্ত মানা হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।

সরকারের কাছে তিনি নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড স্পষ্ট করার দাবি জানান। কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে থাকলে দ্রুত প্রতিকার এবং অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবিও জানান তিনি।