জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন মাহবুবা হাকিম। গত ৩ মে শপথ নিয়ে তিনি সংসদ অধিবেশনেও অংশ নিয়েছেন। তবে নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া তার শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
হলফনামার শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লেখা রয়েছে এলএলএম ও ব্যারিস্টার অ্যাট ল’। অথচ তিনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি নিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে এবং হলফনামার সঙ্গে সেই সনদই জমা দিয়েছেন। মাহবুবা হাকিমের দাবি, তথ্য লিখতে করণিক ভুল হয়েছে; সংশোধন চেয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
আবেদনে তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে খেলাফত মজলিসের মনোনয়নে তিনি সংরক্ষিত নারী আসন (৩৪৮ মহিলা আসন-৪৮) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং গত এপ্রিলে যথাসময়ে জমা দেওয়া ও গৃহীত মনোনয়নপত্রে অনিচ্ছাকৃত করণিক ও মুদ্রণজনিত ত্রুটি ধরা পড়েছে। তার ব্যাখ্যা, আগের একটি খসড়া ফর্ম থেকে কপি-পেস্ট করার সময় হলফনামায় ব্যারিস্টার অ্যাট ল’ তথ্যটি ঢুকে যায়, আর ওই অংশে কলম দিয়ে কাটা দাগও দেওয়া আছে। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাভার থানার ফর্মে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ব্যক্তিগত তথ্যসংক্রান্ত ফর্মেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রির উল্লেখ রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের ভাষ্য, বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের নজরে আসেনি; জানার পর আইনে যা আছে, সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্পিকারের মাধ্যমে বা কারও আপত্তি কিংবা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি এলে তা নিষ্পত্তির আইনি পদ্ধতি রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই কাজ হবে।
কোন সনদ জমা পড়েছিল, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছেন না বলে জানান মো. মঈন উদ্দীন খান, যিনি ইসির যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তার ভাষ্য, সিইসির কাছে জমা পড়া আবেদনটি এখনো তার হাতে পৌঁছায়নি; পৌঁছালে নথি কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।
মাহবুবা হাকিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মুদ্রণজনিত কারণে হলফনামার শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ভুল হয়েছে, তবে তিনি বুটেক্সের সনদই জমা দিয়েছেন। সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রথম বক্তব্যেও নিজেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কেন তিনি নিজেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল’ লিখবেন। তাকে হেয় ও মানহানি করতেই পরিকল্পিতভাবে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে নির্বাচিত হওয়ার পরও ইসি ব্যবস্থা নিতে পারে। তার মতে, সনদ জমা না দিলে বাছাইয়েই মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কথা, আর আরপিও অনুযায়ী ছোটখাটো ভুলে মনোনয়ন বাতিল হয় না; তবে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।






