সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থীকে ভেরিফিকেশনের অজুহাতে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার কড়া নিন্দা জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলেন, যাঁরা বাদ পড়েছেন তাঁদের প্রত্যেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মেধার জোরে ভাইভায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছেন। এরপর এনএসআই, এসবি ও ডিএসবির ভেরিফিকেশনের নামে তাঁদের বাদ দেওয়া হলে তার নির্দিষ্ট কারণ, আইনি ভিত্তি ও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনতে হবে।
নেতাদের মতে, ভেরিফিকেশন কখনো বৈষম্য, হয়রানি বা রাজনৈতিক-মতাদর্শিক বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক মত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা সরকারের সঙ্গে ভিন্নমতের কারণে কাউকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়, মতপার্থক্য কিংবা নিছক অনুমানের ওপর ভর করে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
গোপন প্রতিবেদন বা অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কারও চাকরি ও ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করে নেতারা বলেন, কোনো সংস্থার প্রতিবেদনের কারণে নিয়োগ বাতিল হলে প্রার্থীকে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তি ও প্রমাণ এবং আইনি কারণ যাচাই করার সুযোগ দিতে হবে।
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সাম্প্রতিক উদ্যোগ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে বলে উল্লেখ করেন এবি পার্টির নেতারা। তাঁদের মতে, একদিকে সুপারিশপ্রাপ্তদের বাদ দেওয়া, অন্যদিকে নিয়োগের বিভিন্ন ধাপে নম্বর বা মানদণ্ড বদলের উদ্যোগ জনমনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। দুর্নীতি, আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তাঁরা।
এ অবস্থায় বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্তদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনর্বিবেচনা, অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ প্রকাশ এবং প্রয়োজনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবি জানায় দলটি। আইনগতভাবে অযোগ্য নন এবং মেধা ও যোগ্যতায় নির্বাচিত, এমন প্রার্থীদের দ্রুত পুনর্বহাল করে নিয়োগ শেষ করার আহ্বানও জানানো হয়।
নেতারা বলেন, সরকারি চাকরি কোনো দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়; এটি একজন নাগরিকের মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্য অধিকারের প্রশ্ন। গণঅভ্যুত্থানের পরও ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও বাছাই চলতে থাকলে তা বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী হবে বলে সতর্ক করেন তাঁরা।






