নিউগিনি আবাসনে হামলার ঘটনায় জামাতা মিজানুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিবৃতি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর। গ্রেপ্তার নিয়ে প্রচারিত খবরকে তিনি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পশ্চিম মাটিকাটায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ বছর বয়সী মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ।
বিবৃতিতে আব্দুল গফুর বলেন, সম্প্রতি ঢাকার মাটিকাটা থেকে মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার নিয়ে আমার দেশসহ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামীর নাম জুড়ে দিয়ে এবং তাকে জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে দাবি করে তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তার দাবি, খবরে মিজানুর রহমানকে তার নিজের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের যে কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। মাটিকাটায় তার কোনো বাসা নেই, তিনি সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ন্যাম ভবনে থাকেন বলে জানান এই সংসদ সদস্য। তথ্য যাচাই না করে খবর ছেপে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল গফুর বলেন, ঘটনাটি মিজানুর রহমানের একান্ত ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিষয়; এর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই, জামায়াতে ইসলামীরও কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষ্য, নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিজানুর রহমানের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির কাছে তার পাওনা অনেক দিন ধরে আটকে ছিল।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাইফুল ইসলাম নানা কৌশলে টাকা পরিশোধ এড়িয়ে গেলে মিজানুর রহমান আইনি পথে গিয়ে থানায় মামলা করেন। এরপর সাইফুল ইসলাম পাওনার একটি অংশ শোধ করলেও বাকি টাকা না দিতে পাল্টা মামলা করেন, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে খারিজ হয়ে যায় বলে জানান আব্দুল গফুর।
এমপি গফুরের দাবি, তার জানামতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মিজানুর রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই; বিষয়টি অন্যদিকে ঘোরাতে সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে সাজানো ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে জামায়াতের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং তাকে হেয় করার চেষ্টাকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে।






