সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি হামিদ লতিফ ভূঁইয়া কামাল আদালতে দাবি করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না, বরং ছাত্রশিবির করতেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময়কার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে তিনি এ দাবি করেন।
আদালতের অনুমতি নিয়ে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদের এই সাবেক চেয়ারম্যান জানান, আওয়ামী লীগ করেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। নিজের সম্পর্কে তাঁর ভাষ্য, ‘আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম।’ আওয়ামী লীগ প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর ওই নেতার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন দাবি করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, সম্পর্ক ভালো হলে কেন তিনি তাঁর বাসায় যেতেন না।
ভাটারায় শামিম মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান। আসামির আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগের দাবি, এক বছরের বেশি কারাবন্দী তাঁর মক্কেল দুই মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন; ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের ঘটনায় ২০২৫ সালে মামলা হলেও ২০২৬ সালে এসে জামিন ঠেকাতেই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ পাল্টা দাবি করেন, আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস ছিলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন দমাতে অর্থ জুগিয়েছেন এবং তদন্তেও তাঁর সম্পৃক্ততা মিলেছে। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারার একশ ফুট এলাকা থেকে শাহবাগের দিকে রওনা হলে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়া হয়, এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে গুলি লাগে শামিম মিয়ার বুক, ঠোঁট, গাল ও মাথায়; চিকিৎসা নিয়ে তিনি ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেন।






