মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দখল ও ভাঙচুরে জড়িতদের কেবল দলীয় শাস্তি দিলেই চলবে না, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১৫ আসনের এই সংসদ সদস্য বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংরক্ষিত নারী আসন থেকে পদত্যাগ করার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি তোলেন।

পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, রাতের আঁধারে রাড্ডা ক্লিনিক দখল হওয়ার পর সরকার ও ক্ষমতাসীন দল চাপে পড়ে অবশেষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। তবে তাঁর মতে, এমন গুরুতর অপকর্মে কেবল দলীয় পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, দোষীদের আইনের মুখোমুখি করে কঠোর সাজা দিতে হবে।

জামায়াত আমির আরও লেখেন, ‘দেশবাসী দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায়।’ ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট হওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে নতুন করে গড়ে দেওয়ার দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে বলে মত দেন তিনি।

মিষ্টি বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত মধ্যরাতে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর মিষ্টির নাম আলোচনায় আসে এবং সরকারি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে; সেই প্রেক্ষাপটেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকার ও বিএনপি ঘটনাটি তদন্তের কথা জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আগেই বলেছিলেন, মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে কেউ ছাড় পাবে না।

মিষ্টি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক; বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই কমিটি বিলুপ্ত করার পরই তাঁর পদত্যাগের প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাড্ডার ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।