প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, কিছু দল সারা দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, আর এমনটা হলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে; তাই তাদের বিষয়ে সজাগ ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশকে এগিয়ে যেতে দিতে হবে, একদফার কথা তুলে দেশকে পেছনে টানা যাবে না। যারা একদফার দাবি তুলছে এবং যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কিংবা খাল খননের মতো কোনো কর্মসূচি আছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

একটি দল নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিলিয়েছিল বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গুপ্ত বাহিনী মানুষের অধিকার হরণ করছে। তাঁর দাবি, ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পলায়নের পর গুপ্তরা বলেছিল, পালিয়ে যাওয়া পক্ষ ক্ষমতায় এলেও তাদের আপত্তি নেই, কারণ একসময় তারা একসঙ্গে ছিল। হত্যার রাজনীতি যারা করে, জনগণকে তাদের দেওয়ার কিছু নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় মানুষের জন্য কাজ করে এবং কৃষক, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সাধারণ মানুষের পাশে আছে।

বহু বছর পর নানাবাড়ির এলাকায় এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মা আর বেঁচে নেই, তাই এখন এলাকার মানুষকেই তাঁকে দেখে রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি, কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড ও সরকারি অর্থসহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, জনগণের টাকাই অসচ্ছল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে; বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এ এলাকার প্রসঙ্গে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিতে সুফল এনেছে। জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩০ শয্যা চালু করেন, পরে বেগম খালেদা জিয়া তা ৫০ শয্যায় নেন এবং আগামী পাঁচ বছরে তা ১০০ শয্যা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের ধারা যেকোনো মূল্যে বজায় থাকলে উন্নয়নও চলবে, স্থানীয়দের মেডিকেল কলেজের দাবিও পূরণ করা সম্ভব হবে।

পরশুরামে আয়োজিত সমাবেশে স্মৃতিচারণা করে তারেক রহমান বলেন, সম্ভবত ১৯৮৪ সালে তিনি প্রথম নানাবাড়ি আসেন, এরপর আসেন ১৯৯১ সালে মরহুমা খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায়; এখন আল্লাহর রহমত ও মানুষের দোয়ায় দায়িত্ব পেয়েছেন, তাই শুধু বেড়ানো নয়, জনগণ ও নানাবাড়ির জন্য কাজ করতে হবে। নদী ও খাল খননে এলাকায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি ধান উৎপাদন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে কৃষিঋণ মওকুফের যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছিল তা পূরণ হয়েছে, মা-বোনেরাও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তাঁর অভিযোগ, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় দেশের সব কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়, সেগুলো আবার চালু করা হবে; পাশাপাশি পরশুরামের ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ এসব কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় এবং পরশুরাম হাসপাতাল ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু দুষ্টু মানুষ দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ঘিরে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টাও হয়েছে, তবে তা হতে দেওয়া হবে না। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং মা-বোনদের সঙ্গে তারা কী করেছিল, প্রবীণেরা তা দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, গুপ্তরা এখনো বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং নির্বাচনের সময় টিকিটের নামে মানুষকে ভুল পথে নিয়েছে। মানুষের সমর্থনেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন এবং নদী খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী; ১৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সরকার, আর ঘাটঘর জামে মসজিদের পাশে বৃক্ষরোপণেও অংশ নেন তিনি। ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; পরশুরামের সমাবেশে সভাপতি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সঞ্চালনায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব। দুই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু (ফেনী-১) এবং সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল)।