শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় তিন বছরের শিশু সোয়াইফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ফেসবুকে মরদেহের ভিডিওসহ একটি দাবি ছড়ানো হচ্ছে—শিশুটির বাবা আওয়ামী লীগ করেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে জবাই করে মেরেছেন। তবে শিশুটির বাবা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে, রাজনীতি নয়, প্রতিবেশীর সঙ্গে আগের দিনের কথা কাটাকাটির জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

গত ৩ অক্টোবর নিখোঁজ হওয়ার ছয় ঘণ্টা পর শিধলকুড়া ১নং ওয়ার্ড এলাকায় শিশুটির বস্তাবন্দি, গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোয়াইফের মা-বাবা শিমুলি ও সেলিম সরদার ওই এলাকারই বাসিন্দা। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী আলী আকবরের সঙ্গে তাদের ঝগড়া হয় এবং সেই ক্ষোভ থেকে শিশুটিকে মেরে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক আবু আলম জানান, শুক্রবার বিকেলে শিশুদের মারামারি থেকে বড়দের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং সেই রাগ থেকেই হত্যাকাণ্ড; তার তথ্যমতে, নিহত শিশুর বাবা ভ্যানচালক ও জামায়াতের সমর্থক, আর অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত এবং রাজনীতিতে যুক্ত নন। একই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার সামসুল হক বেপারী এবং শিধলকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল শেখও বলেন, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই; চেয়ারম্যানের ভাষ্য, যা প্রচার হচ্ছে তা পুরোপুরি মিথ্যা এবং অভিযুক্তরা ও সেলিম সরদার সবাই ভ্যানচালক।

সোয়াইফের বাবা সেলিম সরদার বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন না, জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত এবং পেশায় ভ্যানচালক; তার অভিযোগ, মাদকাসক্ত ভ্যানচালক অভিযুক্তরা আগের দিনের বিবাদের জেরে তার ছেলেকে খুন করেছে। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীনও জানান, সংশ্লিষ্ট সবাই প্রান্তিক মানুষ ও পেশায় ভ্যানচালক, তদন্তে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র মেলেনি। তার ভাষায়, ‘যে দাবিটি করা হচ্ছে এটি এখন পর্যন্ত ভুয়া বা মিথ্যা।’