ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরা এক ছাত্রীকে নিয়ে কটূক্তি এবং তাকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, এমনকি বহিষ্কারের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির ও সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে কোনো শিক্ষার্থী নিকাব পরলে তা নিয়ে তাকে শ্রেণিকক্ষে অপমান বা বিব্রত করা গ্রহণযোগ্য নয়; প্রমাণ ছাড়া কাউকে সন্ত্রাসী বা উগ্রপন্থী বলা অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, ক্লাসে নিকাব পরা এক সহপাঠীকে সামনে না বসে পেছনে যেতে বলা হয়; এর প্রতিবাদ করলে শিক্ষিকার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে ওই ছাত্রী ফান্ডামেন্টালিস্ট বা সন্ত্রাসী কি না, সে প্রশ্ন তোলা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান বলেও পোস্টে উল্লেখ আছে।

নেতাদের মতে, এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা ওই শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও শিক্ষার অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে; শ্রেণিকক্ষ কারও ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাক নিয়ে হেয় করার জায়গা নয়, মতপার্থক্য থাকলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা জরুরি।

একতরফাভাবে অভিযোগ না মেনে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বের করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায় ছাত্র জমিয়ত; অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে বহিষ্কার বিবেচনার দাবি জানায় তারা। একই সঙ্গে ওই ছাত্রীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের শান্ত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বানও জানানো হয়।

সংগঠনটি মনে করে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ শিক্ষার পরিবেশের অন্যতম শর্ত; এ ধরনের অভিযোগে কোনো পক্ষের পরিচয় না দেখে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।