সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুকে কেবল তাঁর পরিবারের নয়, বিএনপি পরিবারের ক্ষতি হিসেবেও দেখছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম, যিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে পল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রয়াত নেতার দ্বিতীয় জানাজায় তিনি এ কথা বলেন।
আবদুস সালাম জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদ তাঁর এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার ও হাসপাতাল গড়তে চেয়েছিলেন, যা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সেই স্বপ্ন পূরণের উদ্যোগ নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মৃত্যুর দুই দিন আগেও সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেখতে গিয়েছিলেন জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, সেদিন তিনি নিজের পরিবার বা অন্য কোনো বিষয় নয়, দলের ও এলাকার কথাই বলেছিলেন; কমিউনিটি সেন্টার করতে না পারার আক্ষেপও জানিয়েছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠন গড়ার কাজে সালাহউদ্দিন সব সময় পাশে ছিলেন বলে স্মরণ করেন তিনি।
প্রয়াত নেতার সন্তান ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আহমেদ রবিন মহানগরের নেতৃত্বে আছেন উল্লেখ করে আবদুস সালাম আশা প্রকাশ করেন, সুযোগ্য সন্তান হিসেবে তিনি সে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে এ পরিবার বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবু তারা এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে তাঁর বিশ্বাস। অসংখ্য নেতাকর্মী প্রিয় নেতাকে হারিয়ে ব্যথিত উল্লেখ করে সবার জন্য ধৈর্য এবং প্রয়াতের জন্য ক্ষমা ও জান্নাত কামনা করেন আবদুস সালাম; শ্রদ্ধা জানাতে আসা সবাইকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
জানাজায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন ও আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী। বিএনপি ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিকাল তিনটায় শ্যামপুর লাল মসজিদে তৃতীয় জানাজার পর জুরাইন গোরস্তানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে মারা যান সালাহউদ্দিন আহমেদ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।






