শারদীয় দুর্গাপূজার আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় তিনি আশ্বাস দেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী দল একযোগে কাজ করবে।

সভায় জামায়াত আমির বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করতে হবে। তাঁর ভাষায়, এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়; হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সবাই এ দেশের গর্বিত নাগরিক। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে আয়োজিত এ আলোচনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, অধিকার, বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে আসে। দুই পক্ষই পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি ধরে রাখার ওপর জোর দেয়।

সভার পর এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পূজামণ্ডপ, মন্দির ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় জামায়াত নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন হিন্দু নেতারা। তাঁর বক্তব্য, সভায় হিন্দু নেতারা তাঁদের বৈষম্য, বঞ্চনা, দুঃখ-কষ্ট ও বিভিন্ন অসুবিধার কথা তুলে ধরে সহযোগিতা চেয়েছেন, আর বিরোধীদলীয় নেতা তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে এসব সমাধানে সরকার ও বিরোধী দল মিলে কাজ করবে।

ব্রিফিংয়ে সুব্রত চৌধুরী (সভাপতি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ) বলেন, ধর্ম-বর্ণ ও দলমতের ভেদ ভুলে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে কেবল কথায় নয়, বাস্তবেও সব নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সুব্রত চৌধুরী।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতারা।