ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড—সরকারের এমন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বর্তমান সরকারকে জনবান্ধব আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের সমালোচনা হতে হবে সত্য ও ন্যায়সংগত।
জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন রিজভী। দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি আয়োজিত হয়। সভাপতিত্ব করেন জেটেবের সভাপতি ফখরুল আলম।
রিজভী বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না, জনগণ এসব বিশ্বাস করবে না। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের অভিমত উদ্ধৃত করে তিনি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ডের ফলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আরও ৫ শতাংশ কমবে; এমন উদ্যোগের ইতিবাচক দিক উপেক্ষা করে মিথ্যা প্রচার দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচায়ক নয়।
কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক, দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকেরা যাতে প্রতি মাসে কমপক্ষে ২ হাজার ৫০০ টাকা পান, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে আগের যেকোনো বছরের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ কৃষিঋণ ও সর্বোচ্চ ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনের মতো কাজে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সার সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করছে বলে জানান রিজভী। তার ভাষ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে সার আনা হচ্ছে; আমিরাতের সারবাহী জাহাজ মোংলা বন্দরে পৌঁছে গেছে, সৌদি আরব থেকেও জাহাজ আসছে। আলু, টমেটো, বাঁধাকপি ও ফুলকপির মতো শীতকালীন সবজির মৌসুম সামনে রেখে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, সার কারখানা চালাতে যেমন গ্যাস লাগে, রান্নার চুলাতেও তেমনি গ্যাস দরকার; তাই সংকটে কারখানা বন্ধ রাখতে হয়। এর মধ্যেও সরকার দিনরাত খেটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি; তার মতে, গণবান্ধব সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি না দিয়ে মানুষের দুঃখ-কষ্ট বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নেয়।
আগের সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ঘরে ঘরে চাকরি, বিনামূল্যে সার আর ১০ টাকা কেজির চালের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা তা পূরণ করেনি; মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে, পরিণতিতে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়। তার দাবি, যারা সত্য বলে ও সত্য অঙ্গীকার করে, তাদের পালাতে হয় না। শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করা, মানুষের ভোট ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং আদালত-প্রশাসনে ঘনিষ্ঠজনদের বসিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করার অভিযোগও তোলেন তিনি।






