জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা রাজনৈতিকভাবে তাঁকে মোকাবিলা করতে না পেরে পুরোনো রাজনৈতিক তকমা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পোস্টে এনসিপির নেতাদের রাজনৈতিক উত্থানে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন রাশেদ। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ তোলেন তিনি।
রাশেদ লেখেন, শুধু তাঁর কারণে এনসিপির রাজনৈতিক উত্থান শেষ হয়ে গেছে—এমন কথা বলা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতারা রাজনৈতিকভাবে তাঁকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক তকমা দিয়েছিলেন, সেটিকেই এখন তাঁরা রাজনীতির পুঁজি করছেন।
এনসিপির নেতাদের ‘বাচ্চাকাচ্চার দল’ সম্বোধন করে রাশেদ লেখেন, ওই সময় ইত্তেফাক পত্রিকা ক্ষমা চেয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, তিনি টানা ১৮ দিন পুলিশি রিমান্ডে ছিলেন। মিথ্যা রাজনৈতিক তকমা এবং শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় তাঁকে কারাগারেও থাকতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে রাশেদ সে সময়ের প্রথম আলোর একটি সংবাদের উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংবাদে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এনসিপির নেতারা সেই সংবাদ দেখেছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদের বক্তব্য, সব হারিয়ে শেখ হাসিনার দেওয়া তকমাই যদি এখন তাঁদের রাজনৈতিক পুঁজি হয়ে থাকে, তাহলে অতীতের কথাও তাঁদের মনে রাখা উচিত। তাঁর দাবি, ছাত্র অধিকার পরিষদে থাকার সময় তিনি তাঁদের গুরুত্ব দিয়ে আগলে রেখেছিলেন বলেই তাঁরা জাতীয় পর্যায়ে নেতা হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি তাঁদের ‘ইতর’ ও ‘ছেঁচড়া’ বলে আক্রমণ করেন।
পোস্টে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন রাশেদ। তাঁর অভিযোগ, আসিফের দুর্নীতির টাকায় চলা অনুসারীরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন, কারণ তিনি আসিফের রাজনৈতিক অধঃপতনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করলেই সত্য আড়াল করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
রাশেদ আরও অভিযোগ করেন, পদত্যাগের আগের দিন আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেওয়া এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।
এই অভিযোগের সমর্থনে আসিফ মাহমুদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেন রাশেদ। এটিকে তিনি ওই প্রস্তাব দেওয়ার একটি প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।
আসিফকে নিয়ে নাসিরের একটি পোস্টের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। রাশেদের উদ্ধৃতিতে ওই পোস্টে বন্ধুকে একটি লাল পতাকার জন্য নিজেকে বিক্রি না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এরপর এনসিপির উদ্দেশে তাঁর অভিযোগ, দলটিকেই জামায়াতের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
রাশেদের ভাষ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ দুর্নীতি ও লুটপাটে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, সব সংসদ সদস্য ও নেতা মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে গেলেও ৫০–৬০ জনের বেশি মানুষ জড়ো হচ্ছেন না।
ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে এনসিপির নেত্রীদের লিফলেট বিতরণের একটি ভিডিও যুক্ত করেন রাশেদ। সেখানে এক পথচারীকে তাঁদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, সবাই তাঁদের সমর্থন করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা সেই মানুষদের নিরাশ করেছেন।
Source: জাগো নিউজ২৪






