সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে তাঁকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দলের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এই দাবি জানানো হয়। এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, আইজিপির এই বক্তব্য শুধু আইনের শাসন ও সংবিধানের পরিপন্থী নয়; এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে আবার বৈধতা দেওয়ার একটি বিপজ্জনক পাঁয়তারা।

আইজিপির বক্তব্যের প্রসঙ্গ

এনসিপি জানায়, সম্প্রতি পুলিশ মহাপরিদর্শক মন্তব্য করেছেন যে সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে। দলটি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চায়, সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি থাকলেও কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে কখনো বৈধতা দেওয়া যায় না।

বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গে

বার্তায় আরও বলা হয়, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় বলেছিল, ‘গুম ও বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডর অবসান ঘটানো হবে’। এনসিপির অভিমত, তাদের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া আইজিপির এই ধরনের বক্তব্য তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সঙ্গে স্পষ্ট দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের সরাসরি নজির।

গণঅভ্যুত্থান ও পুরোনো ক্ষতের প্রসঙ্গ

এনসিপি আরও জানায়, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে ভয়ংকর সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান তার অবসানের জন্যই সংঘটিত হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধীদলগুলোর শত শত নেতাকর্মীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপরাধমূলক ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস আজও দেশবাসীর চোখের সামনে স্পষ্ট বলে দলটি উল্লেখ করে।

‘চরম ধৃষ্টতা’ ও ‘প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব’

দলটির অভিমত, বিগত স্বৈরাচারের আমল থেকে শিক্ষা না নিয়ে বর্তমানে আবার পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ। এনসিপি বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতা ঢাকতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা জোগাবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ খুলে দেবে।

পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি

বার্তায় এনসিপি আরও জানিয়েছে, সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়; বাংলাদেশের পেনাল কোড ও পুলিশ আইনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে সব ধরনের বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে জুলাই সনদে বর্ণিত পথে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করতে হবে বলেও দাবি জানায় দলটি।

Source: জাগো নিউজ২৪