কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় যাওয়া টাঙ্গাইলের তিন যুবককে সেখানে পৌঁছানোর পর জোর করে দেশটির সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত ৭ মে দেশ ছেড়েছিলেন গোপালপুর উপজেলার মো. আমিনুল ইসলাম (৩০), নজরুল ইসলাম (৪০) ও পবিত্র চন্দ্র (৩৫)।
স্বজনেরা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছে একবারই বাড়িতে কথা বলতে পেরেছিলেন তিনজন, পরে ফোন নিয়ে নেওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঈদের রাতে কোনোভাবে পরিবারকে ফোন করেন আমিনুল; তার কথায়, সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়ে গেছে, ৪৮ ঘণ্টার ভেতর উদ্ধার করা না গেলে তাদের রণক্ষেত্রে পাঠানো হবে।
নজরুল ইসলামের সঙ্গে স্ত্রী আছমা বেগমের শেষ কথা হয় শুক্রবার রাতে। নজরুল তখন জানান, তাকে ও তার সঙ্গী ৩০ বাংলাদেশিকে ৫ জন করে দলে ভাগ করে ৬টি এলাকায় এরই মধ্যে জোর করে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মাধ্যমে রাশিয়ায় যান দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের প্রয়াত কছর উদ্দিনের ছেলে আমিনুল; বাড়িতে তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান। পবিত্র চন্দ্র মজিদপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে, বাড়িতে আছেন তার বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। বীর নলহরা গ্রামের প্রয়াত ইসমাইলের ছেলে নজরুলের পরিবারে আছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও চার সন্তান।
পরিবারগুলো জানায়, শেষ সম্বল বিক্রি করে, ঋণ ও সুদে টাকা ধার নিয়ে তারা এজেন্সিকে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রার দিন জুলিয়া নামের এক রুশ নারীর মাধ্যমে মোট ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা একটি ভিডিওতে হলরুমে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর ব্রিফিং নিতে দেখা যায়, সেখানে ওই নারীও ছিলেন।
ঈদের আনন্দের বদলে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে এখন উৎকণ্ঠা আর কান্না। স্বজনদের দাবি, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যুবকদের উদ্ধার করুক এবং প্রতিশ্রুত কাজে পাঠানোর ব্যবস্থা করুক। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে এজেন্সির কার্যালয় বন্ধ রয়েছে।
তবে এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান যুবকদের সেনাবাহিনীতে দেওয়ার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে, তখন তারা পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানায়, উচ্চ বেতন ও সুযোগ-সুবিধার প্রলোভনে প্রতারণা করে ৩০ বাংলাদেশি যুবককে রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগে ১ জুন জাবাল-ই-নূর, আর এস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস ওভারসিস লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েলফেয়ার সেন্টারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাকিব মাহমুদ জানান, ৩০ জনকে উদ্ধারে কাজ চলছে।






