দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি-২০২৭) বা গ্রিন কার্ড লটারি পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে সরাসরি আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ে লটারি শুরু না হওয়ায় দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিচারক জিনসুক ওহ এই নির্দেশ দেন। আদেশে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

ডিভি লটারি ২০২৭-এর সময়সূচি ও আবেদন প্রক্রিয়া

আদালতের নতুন আদেশ অনুযায়ী সময়সূচিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে:

  • বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের শেষ তারিখ: ২৯ অক্টোবর

  • আবেদন শুরুর তারিখ: ১ নভেম্বর

  • আবেদনের সময়সীমা: আবেদন গ্রহণ শুরু থেকে টানা ৩০ দিন পোর্টাল চালু থাকবে

  • মেধা নির্বাচন সম্পন্ন করার সময়সীমা: ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে

আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু রাখতে বলা হয়েছে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলেছে আদালত, যাতে আবেদনকারীরা সঠিক ওয়েবসাইটের ঠিকানা ও নির্ভুল পদ্ধতি জানতে পারেন।

যোগ্যতার শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ডিভি লটারিতে আবেদনের জন্য সাধারণত যে শর্তগুলো প্রযোজ্য হয়:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

  • পেশাগত অভিজ্ঞতা: বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু পেশায় ন্যূনতম ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

  • নিয়োগকর্তার সুপারিশ প্রয়োজন নেই: কর্মভিত্তিক অভিবাসনের মতো এতে কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা স্পনসর লাগে না।

  • লটারিতে নির্বাচন গ্রিন কার্ডের নিশ্চয়তা নয়: লটারিতে নাম উঠলেও চূড়ান্ত ভিসা বা গ্রিন কার্ড পেতে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, কাগজপত্র যাচাই ও ভাইভা মুখোমুখি হতে হবে।

প্রতি বছর এই কর্মসূচির অধীনে সর্বমোট ৫৫ হাজার পর্যন্ত ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বরাদ্দ রাখা হয়। অধিকাংশ কর্মভিত্তিক ভিসার বিপরীতে এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন পড়ে না।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশ জন্মদেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত ও যোগ্য হবে কি না, তা ২৯ অক্টোবরের সরকারি ঘোষণা প্রকাশিত হওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গ্রিন কার্ড লটারিতে চান্স পাইয়ে দেওয়া বা অর্থের বিনিময়ে বিজয়ী করার নামে কোনো প্রতারকের ফাঁদে পা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মার্কিন সরকারের অফিসিয়াল পোর্টালে সম্পন্ন করতে হবে।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল’ এই মামলাটি দায়ের করে। তাদের অভিযোগ ছিল, সরকারের অহেতুক বিলম্বের কারণে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার যোগ্য আবেদনকারী স্থায়ী বসবাসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশসহ কোন কোন দেশের নাগরিকরা ২০২৭ সালের লটারিতে অংশ নিতে পারবেন, তা স্পষ্ট হবে। আবেদনকারীদের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।