ভুয়া বিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও সীমান্ত ব্যাংকের বর্তমান এবং সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন। দুদকের অভিযোগ, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত একটি ভুয়া বিল তৈরি করে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়।

আসামি যাঁরা

রেলওয়ের আটজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান।

চসিকের আসামিরা হলেন লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

এ ছাড়া সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া ও সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারকে আসামি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত বিল ও টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের অতিরিক্ত হিসেবে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল। সেই বিলের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করা হয় বলে দুদক অভিযোগ করেছে।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ে থেকে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি, সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা হিসাবে চেকটি জমা দেওয়া হয়। পরে একাধিক সময়ে হিসাবটি থেকে পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়।

দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে ওই কথিত ভুয়া বিলের বৈধ অন্তর্ভুক্তি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ এবং চেক ইস্যুর সময় বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি মূল ঠিকাদারের তথ্য যাচাই না করার অভিযোগ রয়েছে।

পরিচয় ও নথি যাচাই নিয়ে অভিযোগ

এজাহারে বলা হয়েছে, চসিক থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার সময় কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যবসা কিংবা ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

দুদকের অভিযোগ, পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষরে অসংগতি ছিল। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নিয়েও সন্দেহ ছিল। এরপরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করেননি।

দি কসমোপলিটন করপোরেশনের মালিক নাবিল আহসান জানিয়েছেন, সোহাগ আলী নামের ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না। সোহাগ আলী তাঁর প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধিও নন বলে তিনি জানিয়েছেন।

তদন্তে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ

দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আসামিরা একে অন্যের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল ব্যবহার করে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারাও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।

রিয়াজ উদ্দিন আরও জানান, অনুসন্ধানের সময় কোহিনুর আক্তারের পরিচয় ব্যবহারকারী কথিত ভুয়া ব্যক্তি এবং সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা যায়নি। তদন্তে তাঁদের পরিচয় ও ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হবে। অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাঁকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

Source: জাগো নিউজ২৪