ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের উত্তেজনার মুখে পড়া নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তাঁকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর ফেসবুক লাইভের ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, ভিডিওটি পুরোপুরি না দেখেই গুজবের সূত্র ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

‘ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেছি’

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও তিনি চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু তিনি পাননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বক্তব্য ওই নারীর বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে।

ওসি আরও জানান, ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে সাথী আক্তার তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই কারণে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, জামিনে মুক্ত হয়ে এলে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সাথী আক্তারকে আশ্বস্ত করেছেন।

দুই লাইভ, দুই ভিডিও

এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার (৩০)। তিনি ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত ‘সাথী বিউটি পার্লার’র মালিক। তাঁর বাবার নাম আমজাদ আলী।

৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই দুটি ভিডিওতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে আজকে ভুক্তভোগী।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

১৫১ ধারা কী

ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা মূলত পুলিশের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে সেই অপরাধ প্রতিরোধের জন্য তাকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে পুলিশ বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়।’

Source: জাগো নিউজ২৪