ঢাকার কেরানীগঞ্জের আমান প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন দুজন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শিশুদের খেলনায় রং করার সময় আগুন লাগে। ভবনে রং ও থিনার থাকায় আগুন দ্রুত বড় আকার নেয়।
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য, ভবনটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছিল না। বিভিন্ন তলায় যত্রতত্র প্লাস্টিকের বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখেছেন তাঁরা। ভবনটির পরিস্থিতিকে তিনি ‘মৃত্যুকূপের মতো’ বলে বর্ণনা করেন।
ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে অভিযান
নজমুজ্জামান জানান, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান। খবরটি ছিল কেরানীগঞ্জের আতাসুর রোডে একটি আটতলা ভবনের সর্বোচ্চ তলায় এস এস টয় খেলনার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের।
খবর পাওয়ার পরই কেরানীগঞ্জ থেকে দুটি এবং পোস্তগোলা থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছে কর্মীরা ভবনের ভেতরে তীব্র আগুন ও ঘন ধোঁয়া দেখতে পান। পরে পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও তিনটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যেই তাঁদের কাজ করতে হয়েছে। দেড় ঘণ্টার মধ্যে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তাঁরা।
ভেতরে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে খবর পাওয়ার কথাও জানান নজমুজ্জামান। এ কারণে সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত তিনটি রিজার্ভ ইউনিট এনে প্রস্তুত রাখা হয়। টিটিএল, বিশেষ পানিবাহী গাড়ি ও বিএ টেন্ডারও আনা হয়েছিল। তবে প্রস্তুত রাখা এসব সরঞ্জাম ও ইউনিট কাজে নামানোর প্রয়োজন হয়নি বলে তিনি জানান।
রং ও থিনারের উপস্থিতি
কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে নজমুজ্জামান বলেন, ভবনের ভেতরে রং ও থিনার রাখা ছিল। শিশুদের খেলনায় রং করতে এসব উপকরণ ব্যবহার করা হতো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রঙের কাজ চলার সময় আগুন ধরে এবং সেখানে থাকা এসব উপকরণের কারণে তা সঙ্গে সঙ্গে বড় আকার নেয়। ভবনের ভেতরেই একজন মারা যান।
কারখানাটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সেখানে যে ধরনের ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন ছিল, তা পাওয়া যায়নি। তাঁরা শুধু বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখেছেন; এর বাইরে অন্য কোনো অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা তাঁদের চোখে পড়েনি।
ওপরের দিকে ওঠার সময় প্রতিটি তলায় বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টিকের জঞ্জাল পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান নজমুজ্জামান। তাঁর বর্ণনায়, ভবনের অভ্যন্তরজুড়েই প্লাস্টিক কারখানার কার্যক্রম ছিল। এই পরিস্থিতির কারণেই তিনি পুরো ভবনকে ‘মৃত্যুকূপের মতো’ বলে উল্লেখ করেন।
লাইসেন্সের তথ্য পরে জানাবে ফায়ার সার্ভিস
এ ধরনের কারখানা স্থাপনে সাধারণত ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজনের যথাযথ তদারকির কথা—এ বিষয় তুলে ধরে সেখানে তদারকি করা হয়েছিল কি না জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে নজমুজ্জামান বলেন, তাঁরা তখন আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কারখানাটির অগ্নিনির্বাপণসংক্রান্ত লাইসেন্স বা ফায়ার লাইসেন্স আছে কি না, কিংবা কোনো নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে কি না, সেসব তথ্য পরে জানাতে পারবেন।
Source: জাগো নিউজ২৪






