রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারিসহ বিভিন্ন স্থাপনা আগামী ১৪ ডিসেম্বরের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। সোমবার, ২৬ অক্টোবর বধ্যভূমি পরিদর্শন শেষে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করার কথা বলেন।
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থাপনাগুলোর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় পরিদর্শনের সময় অসন্তোষ জানান মন্ত্রী। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি স্থাপনাগুলোর সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
আহমেদ আজম খান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যতবার সরকার গঠনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, ততবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে দেশের গৌরবের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গৌরব ধারণ ও লালনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের দায়িত্বও রয়েছে।
রায়েরবাজারে শায়িত শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মানুষ যেন যুগের পর যুগ মনে রাখে, সে উদ্দেশ্যেই স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এগুলোর যথাযথ ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখতেই তিনি সরেজমিনে এসেছেন। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ১৪ ডিসেম্বরের আগেই স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ
মন্ত্রী জানান, এখানে নির্মিত লাইব্রেরিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণা করা যাবে। আর্ট গ্যালারিতে তুলে ধরা হবে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ ও বীরত্বের ইতিহাস।
তাঁর আশা, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নিজেদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে আহমেদ আজম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরব তাঁরা ধারণ ও লালন করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এর স্মৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করে যেতে চান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গৌরবগাথা জানানোর লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রকল্পে যেসব অবকাঠামো
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণপূর্ত অধিদপ্তর রায়েরবাজার বধ্যভূমির অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছে। এসব কাজ হয়েছে ‘১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
এই প্রকল্পের অধীনে রায়েরবাজারে লাইব্রেরি ও অডিও-ভিজ্যুয়াল হলের সমন্বিত স্থাপনা, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক ও অফিস কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান ও সীমানাপ্রাচীর।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার এবং ৪০ কেভিএ জেনারেটর। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা, ইন্টারকম, মঞ্চের আলোকসজ্জা, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে। নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও অফিস কক্ষের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।
২৯ অক্টোবর বৈঠকের পরিকল্পনা
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, আগামী বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বাকি কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা এবং স্থাপনাগুলোর সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ওই বৈঠকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. শাহজাহান মিয়া উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন যুগ্ম সচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জেহাদ উদ্দিন, যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ সামছুল হকসহ মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
Source: জাগো নিউজ২৪






