মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জাতীয় রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) ও মানবপাচার প্রতিরোধ তহবিল কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন উইনরক ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাকসুদা মাকসুদি।

সাক্ষাতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং ডিজিটাল এনআরএম প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পাচারের শিকার ব্যক্তিদের টেকসই পুনর্বাসনের কার্যক্রমও আলোচনায় স্থান পায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মানবপাচার ঠেকাতে যেসব বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে, তাদের কার্যক্রমের অনুমোদন দ্রুত শেষ করতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। এসব সংস্থার নতুন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বিদেশে চাকরির নামে অনলাইন জালিয়াতি ও মানবপাচারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাইবার পরিসরে ও বিভিন্ন ভুয়া অনলাইন চাকরির প্রস্তাবের মাধ্যমে সংঘটিত জালিয়াতি এবং মানবপাচারচক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে মাকসুদা মাকসুদি জানান, বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে ২০০৮ সাল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে উইনরক ইন্টারন্যাশনাল। দীর্ঘদিনের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ বাস্তবায়নে সংস্থাটির পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন মাকসুদা মাকসুদি। একই সঙ্গে ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের আসন্ন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনপিএ) বাস্তবায়নেও উইনরক ইন্টারন্যাশনালের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান তিনি।

সাক্ষাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান উপস্থিত ছিলেন। উইনরক ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত ও নাসিরউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীও বৈঠকে অংশ নেন।

Source: জাগো নিউজ২৪