দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।
শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশে আইএলওর ভূমিকার প্রশংসা
সাক্ষাতে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ শ্রম অধিকার, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলওর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে খাপ খাইয়ে নেওয়া, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, এক্ষেত্রে আইএলও বাংলাদেশে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দক্ষতা, উপকূলীয় কর্মসংস্থান ও পরিবেশে গুরুত্ব আইএলওর
আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোন কর্মসংস্থানের গুণগত মানোন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বনায়ন এবং গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের মতো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সমন্বয় ও নীতিগত উদ্যোগ জোরদার করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইএলওর আওতায় বাস্তবায়নাধীন উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ইউনিট হিসেবে কাজ করার অনুরোধ জানান ম্যাক্স টুনোন।
জিআইইউতে আইএলওর কারিগরি পরামর্শক নিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে আইএলওর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর।
কে কে উপস্থিত ছিলেন
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজও উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ।
Source: জাগো নিউজ২৪






