কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ছে। গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, বিক্রয়, কর ব্যবস্থাপনা ও কর্মী নিয়োগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই এজেন্ট কাজে লাগিয়ে এসব প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। এতে কর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও আগের চেয়ে দ্রুত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তর মোকাবিলা: প্রয়োগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা রাইসুল কবির।
গ্রাহকসেবায় এআইয়ের প্রভাব
রাইসুল কবির বলেন, আগে কোনো গ্রাহক ফোন করে তথ্য জানতে চাইলে তা নথিভুক্ত করে পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। এখন এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর ফলে গ্রাহকের তথ্য নথিভুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রয়কর্মীদের কাছে বিজ্ঞপ্তি পৌঁছে যায়। এরপর তাঁরা দ্রুত গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে গ্রাহকের ফোন পাওয়ার দিনই বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে—যা আগে সম্ভব হতো না।
অভ্যন্তরীণ কাজেও এআই এজেন্ট
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেও এআই এজেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান রাইসুল কবির। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্রয় বিভাগের সঙ্গে করসংক্রান্ত মতবিরোধ বা করের নিয়ম পরিবর্তনের মতো বিষয় এবং মানবসম্পদ বিভাগের কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন এআই এজেন্ট যুক্ত করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের কাজ সহজ হচ্ছে এবং তাঁদের কর্মজীবন আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে চেষ্টা চলছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ
এআইয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী রাইসুল কবির। তাঁর মতে, এআই একটি গণতান্ত্রিক প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত বৈশ্বিক মানে পৌঁছাতে এবং উন্নত মানের সেবা দিতে পারবে। এতে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে, একই সঙ্গে কাজের চাপ ও মানসিক চাপও কমবে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে মানুষ নিজেদের মধ্যে সময় কাটাবে আর এআই অনেক কাজ সামলে নেবে।
‘কর্মীরা অনেকটাই প্রস্তুত’
বাংলাদেশের কর্মীদের এআই ব্যবহারের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কর্মীরা অনেকটাই প্রস্তুত। এআই দক্ষতার ঘাটতি কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকেই ভালো কাজ করতে পারছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হবে দ্রুত শেখার সক্ষমতা। নতুন কোনো বিষয় বা প্রযুক্তি কত দ্রুত আয়ত্ত করা যাচ্ছে, সেটিই কর্মীদের এগিয়ে থাকার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।
রাইসুল কবির আরও বলেন, বাংলাদেশের কর্মীদের মধ্যে দ্রুত শেখার সক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক বাজারে তৈরি হওয়া চাহিদাও তাঁরা ভালোভাবে পূরণ করতে পারছেন।
কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি
তবে এআইয়ের কারণে অনেক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে, যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে। কারণ, দেশে দাপ্তরিক বা শ্বেতপেশার (হোয়াইট-কলার) কর্মসংস্থানের সুযোগ এমনিতেই তুলনামূলক কম।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এতে আরও বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. জুলকারিন জাহাঙ্গীর, রেভোরার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ রহমান, মার্কোপলো এআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাসফিয়া তাসবীন এবং পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ।
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ
Source: জাগো নিউজ২৪






