বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ডিসেম্বর থেকেই নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেতে পারেন। এ জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে ইতিমধ্যে মৌখিক সম্মতি মিলেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক চীন সফরে থাকাকালে অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। এসব আলোচনার পর নতুন পে-স্কেলে বেতন দিতে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে। চলতি নভেম্বরের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র পাওয়ার আশা করছে মন্ত্রণালয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ডিসেম্বরেই যেন শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলে বেতন পান, সে জন্য তারা চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর থেকেই নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া যাবে। তবে কোনো কারণে সেটি সম্ভব না হলে জানুয়ারি মাস থেকে শিক্ষকরা নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন।
যত টাকা প্রয়োজন
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে বেতন দিতে ছয় মাসের বকেয়াসহ আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা মেটাতে স্কুল পর্যায়ে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং কলেজ পর্যায়ে ৭৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায়।
গত ১ নভেম্বর মাউশি এই হিসাব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠায়। এর ভিত্তিতে একই দিন অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেনের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের জন্য চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।
তবে অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ডিসেম্বর থেকে নতুন পে-স্কেলে বেতন দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা চূড়ান্ত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের ওপরই নির্ভর করছে।
Source: জাগো নিউজ২৪






