প্যারিসে চার দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস থেকে বাংলাদেশের পোশাক ও বস্ত্রখাত প্রায় ৮.০২ মিলিয়ন ডলারের নিশ্চিত ও সম্ভাব্য অর্ডার পেয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রদর্শনীতে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ উদ্বোধন করেন খন্দকার এম তালহা, যিনি ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি। পরে তিনি বাংলাদেশি সব স্টল ঘুরে দেখেন এবং অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সহায়তায় অংশ নেওয়া ১৮টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী এই অর্ডার এসেছে। তাঁর মতে, এটি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের প্রতি বাড়তি আস্থার প্রতিফলন।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, অর্ডারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া, ফলপ্রসূ বৈঠক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাও মিলেছে। এর বাইরে আরও ১১টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশ নিয়ে ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের কথা জানিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত তালহা বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হয়েও টেক্সওয়ার্ল্ডে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার। তাঁর মতে, এমন প্রদর্শনী ইউরোপের নতুন প্রযুক্তি, ফ্যাশনের বদলে যাওয়া ধারা এবং কাঁচামাল ও অ্যাকসেসরিজ সংগ্রহ সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের বাস্তব ধারণা দেয়, যা ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত করবে।
তিনি কম দামের প্রস্তুত স্টলের বদলে বড় খালি জায়গা ভাড়া নিয়ে পেশাদার প্রতিষ্ঠান দিয়ে থিমভিত্তিক নকশা ও সাজসজ্জা করার পরামর্শ দেন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা এবং পেশাদার ব্র্যান্ডিংয়ের ওপরও জোর দেন তিনি।
টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস বিশ্বে ফ্যাশন বস্ত্র ও পোশাক সংগ্রহের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এবারের আসরে বাংলাদেশি প্রদর্শকদের জোরালো উপস্থিতি মানসম্মত উৎপাদন, কমপ্লায়েন্স, টেকসই উদ্যোগ ও পণ্যবৈচিত্র্যে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরেছে বলে জানানো হয়।






