চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে রুটি খাইয়ে দিয়ে আলোচনায় আসা বরিশালের উজিরপুরের ৯ বছরের শিশুটি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আবার স্কুলে ফিরেছে। সকালে মাকে পাশে রেখে তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে উপজেলার একটি বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুঁটিতে বেঁধে রাখেন। পরদিন সকালে সেখানে ছুটে যায় তার মেয়ে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী; বাবাকে আর না মারার মিনতি করে সে চায়ে ভেজানো রুটি ছিঁড়ে বাবাকে খাওয়াতে থাকে। এর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়।

ঘটনার পর থেকে মেয়েটি স্কুলে যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার সেখানে উপস্থিত শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকার গণ্যমান্যদের কাছে শিশুটির স্বাভাবিক পড়ালেখার জন্য সহযোগিতা চান ইউএনও। মেধাবী এই শিক্ষার্থীকে সাদরে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার পড়াশোনা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা থাকবে বলে জানান প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর মেয়েটির বাবাকে বরিশাল নগরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে তিন মাস রাখার ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন, খরচও বহন করছে তারা। মেয়ের পড়ার খরচ জোগাতে মায়ের নামে স্থায়ী আমানতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; মা এবং সুস্থ হয়ে ফেরার পর বাবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।

ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, সমাজের সব অসংগতি হয়তো দূর করা যাবে না, তবে একটি পরিবারকে সুরক্ষা দিয়ে অন্তত একটি মডেল দাঁড় করানো সম্ভব। শিশুটির মা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ইউএনও পাশে না দাঁড়ালে পরিবারটি শেষ হয়ে যেত, মেয়ের পড়াও বন্ধ হয়ে যেত।

খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অনেকে সাহায্যের আগ্রহ দেখান। ফ্রান্সপ্রবাসীদের উদ্যোগে যুক্ত সাত্তার আলী সুমন (ফ্রান্স বাংলাদেশ বিজনেস ফেডারেশনের সভাপতি), মো. নূর (প্যারিসের প্রবাসী সংগঠন বিসিএফের সভাপতি) এবং আহমেদ সোহেল বাপ্পি (গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী) শুরু থেকেই পরিবারটি ও ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

শুধু সাময়িক সাহায্য নয়, দুই বোনের পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে তারা একটি তহবিল থেকে স্থায়ী আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন। ইউএনওর মাধ্যমে এ সহায়তা পরিবারটির কাছে পৌঁছাবে।