ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তি, কারিগরি জটিলতা আর সময়মতো আবেদন করতে না পারার অভিযোগের মধ্যে বিশেষ কনস্যুলার সেবা শুরু করেছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রথম দিনেই আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া ৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা দিয়েছেন।

দূতাবাস সম্প্রতি ই-মেইলের বদলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে। কিন্তু স্লট সীমিত থাকায় এবং একসঙ্গে বহু মানুষ ঢোকার চেষ্টা করায় অনেকে সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাননি; কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সাইটে ঢুকতে পারেননি।

এর প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা প্রশাসনিক কাজেও। প্রেফেকচারে (Préfecture) রেসিডেন্স পারমিট নবায়নসহ জরুরি নানা প্রক্রিয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় অনেক আবেদনকারী চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন।

প্রবাসীদের অভিযোগ ও বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম ধাপে তিন শনিবার—২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট ও ২২ আগস্ট—বিশেষ সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দূতাবাস, যেখানে আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই আবেদন নেওয়া হচ্ছে। দূতাবাসের পক্ষে দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিল জানান, প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি আবেদনকারী সেবা পেয়েছেন; আগে যারা ই-মেইলে আবেদন করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ধাপে ধাপে তাদের আবেদনও নিষ্পত্তি হবে।

অনলাইন ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে বিপুল ব্যবহারকারী ঢুকলে সাময়িক কারিগরি সমস্যা হতে পারে। আইটি টিমকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে, যাতে সাইটটি আরও সহজ, কার্যকর ও প্রবাসীবান্ধব হয়।

তথ্য দেওয়া ও সিরিয়াল সামলানোর কাজে সহায়তা করেন স্থানীয় বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও। ফ্রান্সপ্রবাসীরা দূতাবাসের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও চান, এ সেবা সাময়িক না থেকে নিয়মিত ও স্থায়ী সমাধানের অংশ হোক।

পাশাপাশি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য ও সহজ করা এবং প্রয়োজনে কনস্যুলার সেবায় জনবল বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তারা। প্রবাসীদের মতে, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে ই-পাসপোর্ট পেতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ঘুচবে।