ফ্রান্সের লা কুরনভে জর্জ ভালবোঁ প্রাদেশিক উদ্যানে দুই দিনের ‘বাংলার মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’ সম্পন্ন হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন সেঁকানো বাঙালির এ আয়োজনের লক্ষ্য ছিল প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা। শিশু-কিশোর থেকে তরুণ, সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মেলা হয়ে ওঠে প্রবাসী বাঙালির আনন্দের মিলনস্থল।

দুই দিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, খেলাধুলা, কুইজ ও ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা, রাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণ; এতে বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উৎসাহী অংশগ্রহণ ছিল। এসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, দেশের ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানোর চেষ্টা ছিল আয়োজকদের। মেলায় দেশি খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প ও লোকজ নানা উপকরণ প্রদর্শনের পাশাপাশি গ্রামবাংলার জীবনযাত্রাও তুলে ধরা হয়।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এএসবি ক্রিকেট ক্লাবের আত্মপ্রকাশ। ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের ক্রিকেটচর্চা এগিয়ে নেওয়া ও তরুণদের নিয়মিত মাঠে রাখার লক্ষ্যে ক্লাবটি যাত্রা শুরু করেছে; আয়োজকদের আশা, এতে প্রবাসী তরুণদের খেলার প্রতি টান বাড়বে এবং দেশটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেট শক্ত ভিত পাবে।

সংগঠনের সভাপতি সরুফ সদিওল, যিনি মহানগর প্যারিসের স্থায়ী শহীদ মিনারের প্রতিষ্ঠাতা, বলেন, ‘প্রবাসে থেকেও আমাদের সন্তানদের বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা আমাদের দায়িত্ব।’ তার মতে, সংস্কৃতির সঙ্গে ক্রীড়াচর্চাও এগিয়ে নিতে হবে। সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর তানিম জানান, মেলাকে শুধু বিনোদনে সীমিত না রেখে নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করাই ছিল উদ্দেশ্য।

প্রধান অতিথি ছিলেন স্টেফান ত্রুসেল, সেইন-সাঁ-দেনি বিভাগের পরিষদের সভাপতি। বিদেশে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরা আর তরুণদের খেলায় যুক্ত করার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ক্রিকেট তরুণদের নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা ও একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা গড়তে পারে এবং ফ্রান্সে বাংলাদেশি ক্রিকেটের বিকাশে উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তানিয়া টুনু (গার্জ-ল্য-গোনেস পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর কাউন্সিলর), ক্যাটি বন্তিঙ্ক (সাঁ-দেনি পৌরসভার পৌর কাউন্সিলর) ও পরিষদের সহসভাপতি ওরিয়ান ফিলোল। আজাদ মিয়া, আলী হোসেন ও জুনেদ আহমেদসহ কয়েকজন ছিলেন সম্মানিত অতিথি; অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আব্দুল কুদ্দুস ও আবু জাফর তানিম।

আয়োজকেরা জানান, সমিতির উপদেষ্টা আব্দুল কাদির ও লোকমান আহমেদ আপনসহ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজনটি সফল হয়েছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন উৎসব করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।